শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সাতক্ষীরায় কৃষি সংকট নিরসনের শীর্ষক সেমিনার

আরো খবর

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ কৃষিজমি অকৃষিখাতে চলে যাওয়ায় কৃষি নির্ভর অর্থনীতির সামষ্টিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন বসতভিটা, রাস্তা-ঘাট-অবকাঠামো নির্মাণ, ইটভাটা স্থাপন, কল-কারখানা ও নগরায়ণে প্রতিবছর এক শতাংশ কৃষি জমি নষ্ট হওয়ায় একদিকে যেমন আবাদ যোগ্য জমির পরিমাণ কমছে।
অন্যদিকে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন কৃষি আবহাওয়াকে দূষিত করার মাধ্যমে কৃষির উৎপাদন ব্যাহত করছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। ভূমির অপব্যবহার রোধ ও কৃষি জমি সুরক্ষাকল্পে আইন প্রণয়ন ও এর কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে দেশের সামষ্টিক উন্নয়নের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে না।
প্রস্তাবিত কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন, ২০১৫ দ্রুত পাশ করে এর বাস্তবায়ন শুরু করা দরকার।সোমবার (২১ আগস্ট) সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ডিজিটাল কর্নারে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক আয়োজিত ‘কৃষি জমির বর্তমান অবস্থা, সংকট, সংকটের কারণ এবং সমাধানের পথ’ শীর্ষক এক সেমিনার ও মতামত সভায় বক্তারা এসব কথা গুলো বলেন।  সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী ফাতেমা তুজ জোহরার সভাপতিত্বেও  সহকারী ভুমি  কমিশনার সুমনা আইরিনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন,
সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সহিদুর রহমান, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা, উপজেলা সমবায় অফিসার করিমুল হক, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনির হোসেন, বারসিক কর্মকর্তা গাজী মাহিদা মিজান,
সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সরদার, শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র রক্ষা টিমের সভাপতি এসএম হাবিবুল হাসান প্রমুখ।বক্তারা  আরো বলেন, প্রতি বছর কৃষি জমির পরিমাণ প্রায় ১ শতাংশ হারে হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমান যে হারে ভূমি কমছে এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে কোনো কৃষিজমি থাকবে না বলে আশংকা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬৯ হাজার হেক্টর আবাদি জমি অকৃষিখাতে চলে যাচ্ছে।
 এছাড়া  অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, নগরায়ণ এবং আবাসনের কারণে হারিয়ে গেছে বিপুল পরিমাণ উর্বর জমি। অপরিকল্পিত উন্নয়ন রোধ করে ভূমির শ্রেণি বা প্রকৃতি ধরে রেখে পরিবেশ ও খাদ্যশস্য উৎপাদন অব্যাহত রাখা, কৃষি জমি ও কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগিক সুবিধার সুরক্ষা ও ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইনের আওতায় দেশের সব জমির শ্রেণি নির্ধারণ করে দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, আবাসন, নদী, সেচ, নিষ্কাশন, পুকুর, জলমহাল, মৎস্য এলাকা, বনাঞ্চল, সড়ক ও জনপথ এবং রেলপথ, হাটবাজার, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা, চা, উপকূলীয় অঞ্চল, পর্যটন এলাকা চিহ্নিত করে দিতে হবে। কোনো আবাদি জমি অকৃষিখাতে ব্যবহার করা যাবে না। কেউ যদি এ ধরনের জমিতে শিল্প স্থাপন করে, তবে তাদেরকে কোনো সুবিধা প্রদান করা যাবে না। শিল্পপার্ক ছাড়া দেশের যেখানে সেখানে কোনো শিল্প কারখানা গড়ে তোলা যাবে না।
কেউ কৃষিজমি অকৃষি কাজে ব্যবহার করলে অর্থদন্ড ও কারাদন্ডের বিধান রাখতে হবে। দেশ ও দেশের জনগণকে টিকিয়ে রাখতে কৃষিজমি রক্ষার বিকল্প নেই। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে দেশে খাদ্যে উৎপাদন বাড়ছে, তবে যেভাবে অলক্ষ্যে কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে, তাতে সংকট দেখা দিতে খুব বেশি সময় লাগবে না। দেশের মানুষের খাদ্য সংস্থান যে জমি থেকে হয়, তা রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ