মোরেলগঞ্জ ( বাগেরহাট) প্রতিনিধি: মোরেলগঞ্জ একটি নদী তীরবর্তী উপজেলা,এই উপজেলায় রয়েছে অসংখ্য নদী-নালা খাল বিল, বর্তমানে এই অঞ্চলে বর্ষা মৌসুম হওয়ায় ছোট ছোট ঝোপ ঝারে পানি চলে আসায় সাপের নিরাপদ আবাসস্থল নষ্ট হয়েছে যার কারণে বিষধর সাপসহ নানা প্রজাতির সাপ খাদ্য ও বাসস্থানের জন্য এখন লোকালয়ে চলে আসছে।মোরেলগঞ্জ উপজেলায় বেশির ভাগ দরিদ্র গ্রামবাসীরাই কৃষি ও মৎস কাজের সাথে জড়িত,বছরে এখানে সাধারনত নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোর মানুষ সাপের কামড়ের স্বীকার হয়।
সাপের কামড়ের বিষক্রিয়ার প্রভাব দূর করতে বা কমাতে সাধারনত দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। দুঃখজনক হলেও মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীর জন্য প্রতিষেধক ভ্যাকসিন ‘অ্যান্টিভেনম’ নেই। গত দুই মাস আগেও মোরেলগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের একটি মেয়েকে সাপে কামড় দিলে তাকে নিয়ে তার পরিবার টানাহেঁচড়া শুরু করেন,পরবর্তীতে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে ভ্যাকসিন সহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়।এন্টিভেনমের সঙ্গে যে ড্রাগের প্রয়োজন, তাও হাসপাতালে নেই। এতে হতাশায় পড়েছেন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনসাধারণ সহ সচেতন নাগরিকরা। ফলে সাপে কাটা রোগীদের নিয়ে উপজেলাবাসীকে আতঙ্কে থাকতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভার দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাপে কাটা রোগীর জন্য প্রতিষেধক ভ্যাকসিন না থাকায় চিকিৎসক ঝুঁকি না নিয়ে পাঠিয়ে দেন জেলা বা বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে।
সবচেয়ে বেশি । তারা বর্ষা মৌসুমে সর্পদংশনের বড় ঝুঁকিতে থাকেন। তাছাড়া গ্রামে রান্নাঘর এবং গোলাঘরে ইঁদুরের উপদ্রব হওয়ায়, সাপের বিচারণও সেখানে বেশি থাকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে দেখা যায় সাপের কামড়ের চিকিৎসা নীতিমালা-২০১৯ অনুযায়ী এন্টি স্নেকভেনম আনুষঙ্গিক চিকিৎসা, কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে সব সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণ এন্টি স্নেকভেনম ও অন্যান্য ওষুধ সরবরাহ করার কথা।কিন্তু মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব কিছুই নেই। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। কিন্তু এখানে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালটিতে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় অনেক বেসরকারি ক্লিনিকেও এই ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। আমাদের দেশে বিষধর সাপের এন্টিভেনাম ভ্যাকসিন উৎপাদন হয় না। বাহিরের দেশ থেকে আনতে হয়।
বাংলাদেশি ওষুধ কোম্পানি ইনসেপটা এন্টিভেনাম বাজারজাত করলেও চড়া দামের বিক্রির কারণে মোরেলগঞ্জের স্থানীয় বাজারের অনেক ওষধ ব্যবসায়ীরা ফার্মেসিতে তা রাখেন না। ফলে সাপে কামড়ের রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলা বা বিভাগে যেতে হয়। সাপের কামড়ে কেউ আক্রান্ত হলে প্রতিষেধক দেয়ার মতো সক্ষমতা মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই। এক ফাইল ভ্যাকসিনের দাম এক হাজার টাকা। একজন রোগীকে ১০ ফাইল ভ্যাকসিন দিতে হয়।
এছাড়াও গ্রামের মানুষরা সাপে কাটা রোগীদের নিয়ে এখনো সচেতন না। যার কারণে তারা এখনও রোগীদের ওঝা বা কবিরাজ দিয়ে ঝাঁড়ফুক করে থাকে।যেটা একজন সাপে কাটা রোগীকে মৃত্যুর দিকে ঢেলে দেয়।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডা. শর্মী রায় বলেন, সাপের কামড়ের চিকিৎসার এন্টিভেনাম ভ্যাকসিন দীর্ঘদিন আমাদের এখানে সরবরাহ নেই। এন্টিভেনমের সঙ্গে যে ড্রাগের প্রয়োজন, তাও হাসপাতালে নেই।তবে আমরা চাহিদা পাঠিয়েছি।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের কামড়ের প্রতিশেধক স্নেকভেনম সরবরাহের ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ জালাল উদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন,বর্তমান সময়ে এ অঞ্চলে সাপের উপদ্রব বেড়েছে,কিন্তু আমরা এর প্রতিশেধক স্নেকভেনম সরবরাহ করতে পারি নি ,তবে আমি অধিদপ্তরে চাহিদা পাঠিয়েছি,আশা করছি খুব শীগ্রই এন্টিভেনম পেয়ে যাবো।

