শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানাধীন ভেটখালী গ্রামের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রূায়ের মৃত শুশিল বিশ্বাসের পুত্র প্রিয়তোষ বিশ্বাসের নিকট থেকে সুদের টাকা আদায় করার জন্য অভিনব কৌশলে তার মৎস্য ঘেরী দখলে নেওয়ার চেষ্টা চলানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার সকাল ৭ টায় শ্যামনগরের গোলাখালীতে। বিপদে পড়ে প্রিয়তোষ বিশ্বাস গোলাখালী গ্রামের সুদখোর ফরিদউদ্দীনের নিকট থেকে সুদে কিছু টাকা হাওলাদ নেন। সুদে টাকা নেওয়ার বিপরিতে ফরিদউদ্দীন প্রিয়তোষ বিশ্বাসের নিকট থেকে কয়েকটি ফাকা স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নেয়। এরপরে ফরিদউদ্দীন ঐ স্ট্যাম্পে প্রিয়তোষ বিশ্বাসের গোলাখালীর ১৮ বিঘা ঘেরের ডিড লিখে নেয়।
ফরিদউদ্দীন সুদে আসলে ৪ লাখ টাকা আদায়ের জন্য প্রিয়তোষ বিশ্বাসের জমির মালিক সেজে অন্যত্র ২০২৩-২০২৪ সালের জন্য ঘেরের ডিড দেয়। সুদের টাকার দায়ে নিজের ঘের বেদখল হওয়ার উপক্রম দেখে প্রিয়তোষ বিশ্বাস পৈত্রিক জমি থেকে ১একর জমি জনৈক হাজী আরব আলীর নিকটে বিক্রয় করে ফরিদউদ্দীনের সুদ আসলে পাওনা ৪ লাখ টাকা স্থানীয় শালিষ মিমাংসার মাধ্যমে পরিশোধ করে শালিষ নামা সম্পাদন করে এবং শালিষের সিদ্ধান্তে ফরিদউদ্দীন প্রিয়তোষ বিশ্বাসকে ১লাখ ৫০ টাকা ও ঐ স্ট্যাম্প গুলো ফেরত দিবে বলে শালিষনামায় সই করে।
সুদখোর ফরিদ এর পক্ষে সোরা মোক্তার মোল্যার পুত্র আকরাম মোল্যা শালিষ নামায় স্বাক্ষী থাকে। সুদের টাকা পরিশোধ হওয়ার পরেও স্ট্যাম্প ফেরত না দিয়ে সুদখোর ফরিদ টাকা আদায়ের জন্য প্রিয়তোষের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার আমলী ৫ নং আদালতে সি আর ৮৮৬/২৩ নং মামলা দায়ের করে আবার একই স্ট্যাম্প ব্যাবহার করে ১৪৫ ধারায় অতিঃ জেলা ম্যাজিস্টেট আদালতে মামলা করে।
পৈত্রিক জমি বিক্রয় করে সংখ্যালঘু পরিবারটি সুদের টাকা স্থানীয় শালিষের মাধ্যমে মিমাংসা করে পরিশোধ করার পরেও সুদখোর ফরিদ আদালতে টাকা আদায়ের মামলা, জমিতে ১৪৫ ধারার মামলা করার পরেও গত রবিবার জমি দখলেরর চেষ্টা করতে গেলে প্রিয়তোষ বিশ্বাস স্থানীয় রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়াডের ইউ, পি সদস্য আলী আজগর বুলুকে ঘটনাটি বলেন।
মেম্বার ঘটনাটি জানার পরে বিরোধীয় ঘেরে যেয়ে উভয় পক্ষকে ঘের থেকে বের করে নিয়ে পরিষদে বিচার না হওয়া পর্যন্ত প্রিয়তোষের একজন ঘের দেখা শোনা করার দায়িত্ব দেয়। এদিকে ঘের দখলে ব্যার্থ হয়ে সুদ খোর ফরিদ গত সোমবার সংখ্যালঘু প্রিয়তোষের দখলে থাকা মৎস্যঘেরীটির দখল নেয়ার জন্য আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা করেছে। পরিশোধিত সুদের টাকার একই বিচার এখন গ্রাম আদালত, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালত ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট আদালতে একই সাথে চলছে।

