শুক্রবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সুন্দরবনে ২৬ জেলে অপহরণ, জলদস্যুরা বেপরোয়া

আরো খবর

ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা:
মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে আরও ২০ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা। গত সোমবার দিবাগত রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়িয়া খাড়িসংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরার সময় তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে গত শুক্রবার শেলারচর থেকে আরও ছয় জেলেকে অপহরণ করা হয়েছিল। এ নিয়ে চারদিনের ব্যবধানে জিম্মি জেলের সংখ্যা ২৬-এ দাঁড়িয়েছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার দিকে বঙ্গোপসাগরের পৃথক স্থানে মাছ ধরছিলেন জেলেরা। এ সময় জলদস্যু ‘সুমন বাহিনী’ ও ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’র সদস্যরা ২০টি ট্রলারে হানা দিয়ে প্রতিটি থেকে একজন করে মোট ২০ জেলেকে অপহরণ করে। অপহৃত জেলেদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা, কয়রা উপজেলা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায়।

বনদস্যুরা হাতে অপহরণ হওয়া জেলেরা অন্য জেলেদের কাছে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে।

দুবলার চলে শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় জানান, এর আগে শুক্রবার অপহৃত ছয় জেলে এখনও দস্যু ‘করিম শরীফ বাহিনী’র কাছে জিম্মি রয়েছেন। তাঁদের মুক্তির বিনিময়ে শেলারচর শুঁটকি পল্লীর ৫০টি ঘরের প্রতিটির কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে জিম্মিদের ছাড়া হবে না বলে দস্যুরা হুমকি দিয়েছে।

বনদস্যুদের এমন বেপরোয়া তৎপরতায় সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে মৎস্য আহরণে নিয়োজিত জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “দস্যুদের ভয়ে জেলেরা সাগরে যেতে চাচ্ছে না। মুক্তিপণ আর চাঁদা দিতে দিতে ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অনেকে পেশা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।”

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম ২০ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “জেলেদের নিরাপত্তায় বনরক্ষীদের টহল জোরদার করা হয়েছে। অপহৃতদের উদ্ধার ও দস্যু দমনে কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।”

আরো পড়ুন

সর্বশেষ