শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ফেসবুকে  প্রচার-প্রচারণা: মণিরামপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ২

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হরিহরণগর ইউনিয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন আহত হয়েছেন। একজন মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন এবং অপরজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনা ঘটেছে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হরিহরণগর ইউনিয়নের খাটুরা বাজার এলাকায়।
আহতদের স্বজনদের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের ছোট চাচা রুহুল কুদ্দুস বলেন, রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে গণ্ডগোল হয়েছে।   ১২-১৫ জন দোকানে এসে দুই ভাইকে মারধর করেছে। ঘটনার সময় তারা দোকানে অবস্থান করছিল। আহতরা হলেন— সাইদুর রহমান আবির ও তার বড় ভাই সম্রাট হোসেন।
সাইদুর রহমান আবির হরিহরনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের  সি: যুগ্ন আহবায়ক ।
গুরুতর আহত সাইদুর রহমান আবির দাবি করেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ ইকবালের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে  প্রচার-প্রচারণা চালানোর কারণে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তার অভিযোগ,  রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে এ হামলা চালায় এবং এ সময় তার দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
আহতদের মা মৌসুমি বেগম বলেন, আমার ছোট  ছেলে আবিরকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। ওর বাবা ও এলাকার লোকজন তাকে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেছে।
আহতদের পিতা জাহাঙ্গীর মেম্বার অভিযোগ করেন, স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের কারণে হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেন, হরিহরণগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে। জাহাঙ্গীর আরও বলেন, রিপন, মহব্বত, বুলবুল, আব্দুল আলিমসহ আরও ১৪-১৫ জন এই হামলায় জড়িত ছিলেন।
তবে হরিহরণগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রবিউল ইসলাম দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ঝিকরগাছায় অবস্থান করছিলেন এবং পরে এলাকায় ফিরে ঘটনা শুনেছেন। তিনি স্বীকার করেন, রিপন, মহব্বত, বুলবুল ও আব্দুল আলিম তার গ্রুপের লোক। তিনি আরও বলেন,  কিছুদিন ধরে আবির নামের ওই ছেলে  এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী মওলানা রশিদ বিন ওয়াক্কাসের সমর্থকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল স্বতন্ত্র প্রার্থী এম ইকবাল হোসেনর কলস মার্কার নির্বাচন করার জন্য । এর প্রভাবেই আজকের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, রবিউল ইসলাম তার নিজের গ্রুপের রাজনীতি করে। ঘটনার বিষয়টি আমি ফেসবুক মাধ্যমে  জানতে পেরেছি। শুনেছি ওই ছেলেটি কিছুদিন ধরে এলাকায় উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করছিল, তাই এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
এ ঘটনায় মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী এম ইকবাল হোসেনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মণিরামপুর উপজেলা আমির ফজলুল হক এ বিষয়ে স্পষ্ট ও নিশ্চিত  করে বলেন, এই ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয়।
এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সম্রাট হোসেন বলেন, আমরা একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। আজকের ঘটনার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। সবাইকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ