রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

হত্যাকান্ডের জের: নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িসহ অর্ধশতাধিক বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নি সংযোগ

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল:
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় হত্যাকান্ডের জেরে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িসহ অর্ধশতাধিক বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পুরুষ শূন্য গ্রামটিতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নারী ও শিশুরা। রবিবার (১৩ এপ্রিল) ভোর রাত পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযানে সংঘর্ষের সাথে জড়িত উভয় পক্ষের মোট ৩১ জনকে আটক করে। এরমধ্যে জ্ঞিাসাবাদের পর ৩ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

শনিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে (গ্রামটিতে) গিয়ে দেখা যায় কোন কোন বাড়িতে আগুনের ধোয়া উড়ছে, অনেক বাড়ির সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, অর্ধশতাধিক বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে লুটপাট করা হয়েছে তাঁদের নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র।

 

ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগে ক্ষতি গ্রস্থ কাঞ্চনপুর গ্রামের আজগর মোল্যার মেয়ে অনামিকা বলেন, ফরিদ মোল্যা নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক পিকলু, সাহেব মোল্যা, ইকবাল মোল্যা, কামরুল কাজি, কামাল কাজি, মোস্তাক শেখ, বুলু শেখ, খালিদ শেখ, জামির মল্লিক, জনি মল্লিক, কালু শেখের বাড়িসহ ৫০ টি বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট করে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। এখনো হুমকি দিচ্ছে, আমরা আতঙ্কে আছি, বাড়িতে থাকতে পারতেছি না।

কাঞ্চনপুর গ্রামের মিলন মোল্যার পুত্রবধূ ডলি বেগম বলেন, ভয়ে গ্রাম এখন পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার পর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। কাল (শুক্রবার) রাত থেকে না খেয়ে আছি। চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আত্তাফ মোল্যা মুঠো ফোনে বলেন, ওদের বাড়ির মালজিনিস ওরা ও ওদের আত্মীয় স্বজনরা নিয়ে গেছে শুনেছি। আর বাড়িঘর কারা ভাঙচুর করেছে, আগুন দিয়েছে সেটা আমার জানা নেই।

 

কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রাশেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন বলেন, ফরিদ মোল্যার মৃত্যুর ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা আছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে। তবে, কোনো পক্ষই এখনও কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি।

 

 

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কালিয়া উপজেলার বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ফরিদ মোল্যা (৫৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত এবং উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ