শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মহম্মদপুরে প্রকৃতির উপহার: পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ বেতফল

আরো খবর

বিশ্বজিৎ সিংহ রায়,মহম্মদপুর (মাগুরা):

মাগুরার মহম্মদপুরে প্রাকৃতিক উপহার বেতফল সুস্বাদু পুষ্টিকর নদী মাতৃক বাংলার গ্রামগুলোতে বর্ষার পর আকাশ যখন স্নিগ্ধ হয়,প্রকৃতি তখন তার অমূল্য রূপের সঙ্গে ছোঁয়াচে খুশি বয়ে আনে।সেই খুশির বার্তা আমাদের কাছে পৌঁছে বেতফলের মাধ্যমে।

গ্রামের ছোট থেকে বড় সবাই এই ফলের জন্য অধীর।বেতফল শুধু খাদ্য নয়,এটি প্রাচীনকাল থেকে মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ,একটি প্রাকৃতিক ঔষধ এবং আনন্দের উৎস।

 গ্রামের বয়স্করা জানেন,বেতফলের রস খেলে শরীর হালকা লাগে,মনও শান্ত হয়।

বেতফল সাধারণত আষাঢ় থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত পরিপক্ক হয়।নদীর তীরবর্তী আর্দ্র মাটি,পর্যাপ্ত রোদ এবং নিয়মিত বৃষ্টি এই ফলের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।গ্রামীণ কৃষকেরা বলেন বৃষ্টির পরপরই বেতফলের স্বাদ সবচেয়ে মিষ্টি হয়।বৃষ্টির গল্পে ভরা বর্ষার এই ফল গ্রামীণ মাঠের কোলাহল ও প্রকৃতির খুশিকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।

বেতফলে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা,ভিটামিন সি, ভিটামিন এ,ক্যালসিয়াম,আয়রন এবং ফাইবার।এটি

হজম শক্তি বাড়ায়,

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে,

হৃদয় ও দেহ সুস্থ রাখে,

ত্বক ও চুলকে সতেজ রাখে,

শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়ক।

গ্রামের বাচ্চারা ছায়ার তলে বসে বেতফল খেতে খেতে হাসি মুখে আনন্দে ভরে ওঠে।

তাদের হাতে ভরা ফল-মধুর রস যেন প্রকৃতির খুশির গল্প বয়ে আনে।কৃষকরা বলেন,বেতফল আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িত।শুধু খাওয়া নয়,এর গুণে আমরা সুস্থ থাকি।

 দুপুরের তীব্র রোদে ছায়ার নিচে বসে বেতফলের স্বাদ নিলে মনে হয় প্রকৃতিই আমাদের প্রতিদিন নতুন আনন্দ দেয়।সোনালি খোসা ফেটে ভেতরের রসালো অংশ উদ্ভাসিত হয়, যা স্পর্শ করলে মনে হয় প্রকৃতি যেন হাসিমুখে আমাদের সাথে কথা বলছে। বেতফলের রস স্বাদে মিশে আছে বর্ষার গল্প,গ্রামের মাঠের কোলাহল,আর প্রকৃতির অনন্ত সৌন্দর্য।

 বেতফল যে কোনো ঋতুতেই আমাদের প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলে।বর্ষার পর,শুকনো মৌসুমে বা শীতের সময়ও বেতফলের রস আমাদেরকে সতেজ রাখে।গ্রামের পথ ধরে হাঁটলে দেখা যায়,ছায়ার তলে বসে বাচ্চারা বেতফলের রস মুখে নিয়ে আনন্দে উচ্ছ্বাসিত।

এই ফল গ্রামের মানুষের জীবনের আনন্দ,স্বাস্থ্যের রক্ষক এবং প্রাকৃতিক ঔষধ-সব মিলিয়ে প্রকৃতির এক অসাধারণ উপহার।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ