শাহাজান শাকিল, মনিরামপুর: রাষ্ট্রীয় সম্মান ও মর্যাদার প্রত্যাশায় দিন কাটালেও এখনো বীরনিবাসের ঘর পাননি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশাদ আলী (৭৫)। ১৯৭১ সালে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেও জীবনের শেষ বয়সে তাঁকে আশ্রয় নিতে হয়েছে সরকারি গুচ্ছগ্রামে ছেলের সংসারে। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে মেলেনি নিজস্ব ঠিকানা।
হরিহরনগর ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশাদ আলীর নিজস্ব জমি রয়েছে মাত্র আট শতক। সেখানে কয়েকটি নারকেল গাছ থাকলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি বসতঘর নির্মাণ করতে পারেননি। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের নেওয়া বীরনিবাস প্রকল্পের আওতায় ঘর পাওয়ার আশায় একাধিকবার আবেদন করেও আজ পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ পাননি এই বীর সেনানী।
গোয়ালবাড়ি গ্রামের মৃত মোন্তেক গাজীর ছেলে আরশাদ আলী গাজী স্ত্রী ও ছয় সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন সরকারি খাসজমিতে টিনশেড ঘরে বসবাস করতেন। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও মৌয়ালের কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছয় ছেলেকেই বিয়ে দিয়েছেন। ২০২২ সালে তাঁর স্ত্রী জামেলা বেগমের মৃত্যু হয়।
২০২৩ সালে ওই খাসজমিতে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় তাঁর বসতঘর ভেঙে দেওয়া হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন গুচ্ছগ্রামে তাঁর ছেলে হেদায়েত উল্লাহর নামে একটি ঘর বরাদ্দ দেয়। সেই থেকে ছেলের সংসারেই বসবাস করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশাদ আলী।
সংসারের সচ্ছলতার আশায় ছেলে হেদায়েত উল্লাহকে মালয়েশিয়া পাঠাতে গিয়ে আরশাদ আলী ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নেন। এক আদম ব্যাপারীর হাতে ওই টাকা দিলেও ছেলেকে বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতি মাসে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার বড় একটি অংশ ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধে চলে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
এর মধ্যেই ধারদেনা করে গুচ্ছগ্রামের পাশে আট শতক জমি কিনে সেখানে বীরনিবাস প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর পাওয়ার জন্য একাধিকবার আবেদন করেন আরশাদ আলী।উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মনিরামপুর উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩৪ জন মুক্তিযোদ্ধার নামে বীরনিবাসের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ চলতি বছরের জুন মাসে আরও পাঁচটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হলেও ওই তালিকায় আরশাদ আলীর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশাদ আলী বলেন,দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আজ শেষ বয়সে মাথা গোঁজার মতো একটা ঘরের জন্য বারবার আবেদন করেও পাইনি।
আর কত অসচ্ছল হলে বীরনিবাসে আমার ঠাঁই হবে?উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসাহক আলী জানান, আরশাদ আলীর আবেদন সম্পর্কে তিনি অবগত এবং তাঁকে ঘর বরাদ্দের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।এ বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আরশাদ আলীর আবেদন করা হলেও এখনো তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

