শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

৬১ বছর পর স্কুলের বকেয়া বেতন পরিশোধ প্রাক্তন ছাত্রের

আরো খবর

কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি: ১৯৬২ সালে বয়স যখন ১৯, তরুণ এই বয়সেই বিয়ে করেছিলেন
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মহম্মদপুর গ্রামের বৃদ্ধ সোহরাব
হোসেন বিশ্বাস। ইচ্ছে ছিল বিয়ের পরও পড়াশোনা করার। তবে
সেই সময়ে বাড়ির কাছে কোনো হাইস্কুল ছিল না। পরে ৫ থেকে
৬ মাইল দূরের ফুলহরি হাইস্কুলে গিয়ে ষষ্ঠ শ্রেনিতে ভর্তি হন।
তখন ষষ্ঠ শ্রেনির মাসিক বেতন ছিল ৪ টাকা। পরবর্তীকালে এই
বিদ্যালয়েই ৬ মাস পড়াশোনাও করেন সোহরাব হোসেন। তবে
অর্থাভাবে চার মাসের বেতন বকেয়া হয়ে পড়ে। যার ফলে পরীক্ষা দিতে
পারেননি। পরে পড়াশোনা ছেড়ে শুরু করেন তামাক-সুপারির ব্যবসা।
বর্তমানে সোহরাব হোসেনের বয়স ৮০ বছর। জীবন সায়াহ্নে
এসে তার ইচ্ছা হয়- মৃত্যুর আগে সব ধারদেনা পরিশোধ করবেন।
সে অনুযায়ী সবার বকেয়াও পরিশোধ করেছেন। একপর্যায়ে মনে
পড়ে- ছেলেবেলার ফুলহরি হাইস্কুলে তার চার মাসের বেতন বকেয়া
ছিল। ফলে বৃহস্পতিবার ছেলেবেলায় পড়াশোনা করা বিদ্যালয়ে
সশরীরে হাজির হন বৃদ্ধ সোহরাব হোসেন। রশিদ কেটে জমা দেন
৬১ বছর আগের বকেয়া বেতন, দীর্ঘ পাঁচ যুগ পর বিদ্যালয়ের
মাসিক বেতনের বকেয়া টাকা পরিশোধ করে সোহরাব হোসেনের
এমন নৈতিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত উপস্থাপন রীতিমতো হৈচৈ ফেলে
দিয়েছে পুরো জেলাজুড়ে।স্থানীয় ছাত্র আশিকুর রহমান বলেন, তিনি যা করেছেন, তা অনন্য
দৃষ্টান্ত। এমন ঘটনা নবীন-প্রবীনদের জন্য বিরাট শিক্ষণীয় ঘটনা।
আমার জীবনে দেখা সেরা একটি ভালো খবর এটি। একই অনুভূতি
জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা স¤্রাট হোসেন। তিনি বলেন,
কিছু খবর শুনলে অনেক ভালো লাগে। এই খবরটি তার মতোই একটি।
বৃদ্ধ বয়সে তিনি যা করে দেখালেন- তা অবিশ্বাস্য ঘটনা।
কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এটি সারাজীবন তাদের পাথেয় হয়ে
থাকবে। সোহরাব হোসেনের ছেলেবেলায় পড়াশোনা করা ফুলহরি
হাইস্কুলের বর্তমান অফিস সহকারী হাদিকুর রহমান। তিনি
জানান, সোহরাব হোসেনের কথায় আমরা সবাই বিস্মিত হয়ে
যাই। পরে তার ইচ্ছামতো ৩০০ টাকা জমা নিয়েছি। বিদ্যালয়টির
বর্তমান প্রধান শিক্ষক লক্ষ্ধসঢ়;ণ প্রসাদ সাহা বলেন, দুপুরের দিকে
একজন বয়স্ক ব্যক্তি স্কুলে উপস্থিত হয়ে নিজেকে প্রাক্তন ছাত্র বলে
পরিচয় দেন। তারপর তার অভি প্রায়ের কথা বলেন। ৮০ বছর বয়সী
সোহরাব হোসেনের কাছে তৎকালীন বকেয়া বেতন হিসেবে
বিদ্যালয়ের পাওনা ছিল ২৪ টাকা। ৬১ বছর পর তিনি পরিশোধ করেন
৩০০ টাকা। অফিস রুমে এসে রশিদ কেটে এই টাকা জমা দেন তিনি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ