একাত্তর ডেস্ক:রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জ র্যাব-১২ এর সদর দপ্তরে কয়েকটি ‘চরমপন্থি দলের’ ৩১৫ সদস্যের অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ কবরেছেন। আত্মসমর্পণ করে আলোর পথে ফিরে আসা ‘চরমপন্থিদের’ স্বাভাবিক জীবন-যাপন ও পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আশির দশক থেকে এই এলাকার কয়েকটি জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় ‘সর্বহারা ও চরমপন্থিরা’ ঘাঁটি তৈরি করে। পরে ১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ‘সন্ত্রাসের জীবন ছাড়ি, আলোকিত জীবন গড়ি’ স্লোগানে ‘চরমপন্থিরা’ আলোর পথে ফিরে আসেন।
“প্রধানমন্ত্রী তখন যেমন সবাইকে পুনর্বাসন করেছিলেন, তেমনি আজকেও আমাকে আসার আগে বলেছেন, যারা আত্মসমর্পণ করে আলোর পথে ফিরে আসবেন তাদের আর্থিক থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইলসহ দেশের বেশ কিছু জেলা এক সময় চরমপন্থিদের দাপট ছিল।
ষাট-সত্তরের দশকে বামপন্থি রাজনৈতিক দল হিসেবে এদের অনেকের আবির্ভাব হলেও পরে একসময় অনেকেই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। এর মধ্যে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-লাল পতাকা), পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি (এমবিআরএম) ও পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি (জনযুদ্ধ) অন্যতম।
একসময় নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হতে থাকে তারা। চলতে থাকে একে অপরকে হত্যা। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়ায়।
এ অবস্থায় ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন চরমপন্থি দলের শীর্ষ নেতাসহ শতাধিক সদস্য। এরপর ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে ৫৯৬ চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন এলাকার ‘চরমপন্থী’ নেতা ও সদস্যদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফেরাতে র্যাবের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “র্যাব ভালো কাজের পাশাপাশি মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। এ জন্যই ‘চরমপন্থিরা’ আত্মসমর্পণের জন্য র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। র্যাব আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় অপরাধীদের হুঁশিয়ার করে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, “কেউ যদি মনে করেন, আমরা দুর্গম এলাকায় বসে থাকবো, অপরাধ করবো আর আপনারা ধরতে পারবেন না, তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।
র্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশীদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেনজীর আহমেদ, পুলিশের মহা পরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, র্যাব-১২ অধিনায়ক অ্যাডিশনাল ডিআইজি মারুফ হোসেন, সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।(সূত্র: বিডিনিউজ)
