শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা: কেশবপুরে প্রশ্ন বন্টনে ১০ প্রাইভেট শিক্ষক

আরো খবর

কেশবপুর(যশোর) প্রতিনিধি:যশোরের কেশবপুরে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ১৫৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন বন্টনের দায়িত্বে প্রাইভেট পড়ানো শিক্ষকদের হাতে তুলে দেওয়ায় প্রশ্ন ফাঁসের আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিভাবক ও সচেতন মহল এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জহিরের যোগসাজশে নিয়ম লঙ্ঘন করে অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু শিক্ষক এই স্পর্শকাতর সুযোগ নিচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রাইভেট পড়ানো শিক্ষক এবং যাদের সন্তান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত, তাদের প্রশ্ন বন্টনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সূত্র জানায়,বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন বন্টনের জন্য মোট ২০ জন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এই ২০ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ১০ জন শিক্ষকই নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ান। এ ছাড়াও, দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে এমন শিক্ষকও রয়েছেন যাদের ছেলে-মেয়ে ওই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়া করে। এই নিয়ম উপেক্ষা করায় পুরো প্রশ্ন বন্টন প্রক্রিয়াটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ।

অভিভাবকরা মনে করছেন, প্রাইভেট টিউটররা প্রশ্ন বন্টনের দায়িত্বে থাকলে প্রশ্ন ফাঁসের সম্ভাবনা প্রবল । নিজেদের ব্যক্তিগত ছাত্র-ছাত্রীদের ভালো ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য এই শিক্ষকরা অনৈতিক সুবিধা নিতে পারেন, যা শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিকতা ও স্বচ্ছতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করবে।

চিংড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু রাসেল, যিনি প্রশ্ন বন্টনের দায়িত্বে আছেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ জন ছাত্রছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ান। সরেজমিনে গিয়ে তার প্রাইভেট পড়ানোর সত্যতা মিলেছে।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাইভেট পড়ানো শিক্ষকদের প্রশ্ন বন্টনের দায়িত্ব পালনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি জানান, “আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম যে ২০ জন শিক্ষকের মধ্যে ১০ জনই প্রাইভেট পড়ান ও তাদের বাচ্চাও প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। আমি নতুন হওয়ায় সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে এত বড় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছি। আমরা দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ