৩বছর বহিস্কার ও ১৫দিনের জেল হলেও বহাল তবিয়তে শিক্ষক
শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি :-
যশোরের শার্শা সরকারী পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে’র প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মোবাইল চুরি,অনিয়ম, দুর্নীতি ও সার্টিফিকেট জালিয়াতিসহ স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। সৃষ্টি হয়েছে অস্তিরতা। এসব বিষয়ে বিদ্যালয়ের ২৩ শিক্ষক অনাস্থা এনে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে চিঠি দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মেলায় ৩বছর বহিস্কার ও ১৫দিনের জেল হলেও বিশষ তদবিরে বহাল তবিয়তে রয়েছেন বিতর্কিত শিক্ষক। ফলে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে অবিভাবকদের মধ্যে।
যশোরের শার্শা উপজেলা সনাম ধন্য ঐতিহ্যবাহি শিক্ষা প্রতিষ্টান শার্শা সরকারী পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। এ প্রতিষ্টানে’ পড়ালেখা করছেন প্রায় ২হাজার শিক্ষার্থী। প্রধান শিক্ষক শহিদুলের বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাৎ,অনিয়ম,দুর্নীতি ও সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগ করনেেউপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান,সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজামান বাবলু,শার্শা সদর চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন তোতাসহ শিক্ষক ও অভিভাবকরা। প্রতিষ্টানের সুনাম ক্ষুন্ন করছেন তিনি। করোনাকালীন সময়ে সরকার জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করলেও প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন ভাবে রেজিস্টেশন আদায়,স্কুলের ইট বালি খোয়া নিজের নির্মানাধীন বাড়িতে ব্যবহার,বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে১২ লক্ষ টাকা আত্মসাত,বই ও পরীক্ষার খাতা বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা হয় শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে। ইতিমধ্যে ১৫ দিনের জেল খাটেছেন তিনি। সার্টিফিকেট জাল ও দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন তদন্ত কমিটি। এসব বিষয়ে সংশ্লিস্ট বিদ্যালয়ের ২৩ জন শিক্ষক অনাস্থা এনে শিক্ষা বোর্ড সহ মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিতর্কিত শিক্ষক বগতদিনে পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব থাকা কালে দেরীতে খাতা দেওয়া ও খাতা বিক্রি অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার্থীরা বিলম্বে দেন পরীক্ষা। ইউএনওর মোবাইল চুরির ঘটনা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়লেও সুনাম ধন্য বিদ্যাপিঠে কি করে চাকুরী করছেন তিনি প্রশ্ন সর্বমহলের।
২০১৫সালে পরীক্ষার খাতা চুরির অভিযোগে ৩বছর বহিস্কার করা হয়। পরে ১৫দিনের জেল দেওয়া হয় তাকে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন সাবেক শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম শরিফুল আলম। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ১৯৮৫ সালে এসএসসি ও ৭ বছর পর এইচএসসি পাশ করেন।৫ বছর বিরতির পরও যশোর এমএম কলেজের নিয়মিত ছাত্র বলে দাবি করেন তদন্ত কমিটির কাছে। ২০০৯ সালের দারুলল এহসান বেসরকারি বিশ্ব বিদ্যালয় ( বারিধারা ক্যাম্পাস) থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স পাশ করেন বলে দাবি করেন। ঐ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মজ্ঞুরীকমিশন শুধুমাত্র ধানমন্ডী ক্যাম্পাসকে অনুমোদন দিয়েছিলেন।মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক হতে গেলে অবশ্যই তাকে মাস্টার্স পাশ হতে হবে।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন-তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। কোন ঘটনায় প্রমানিত হয়নি বলে দাবী করেন তিনি।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নারায়ণ চন্দ্র পাল জানান,প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক অভিযোগ তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিস্ট দফতরে প্রেরন করা হয়েছে।
২০১৩সাল থেকে স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসাবে চাকুরী করছেন তিনি।

