নড়াইল প্রতিনিধি:‘অন্ধকার থেকে মুক্ত করুক একুশের আলো’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে লাখো মোমবাতির দীপশিখায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন নড়াইলবাসি। একই সাথে ৭২টি ফানুষ উড়িয়ে ভাষা দিবসকে স্মরণ করেন তাঁরা। এ এক চোখ ধাঁধাঁনো ব্যাতিক্রমী আয়োজন। মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নড়াইল শহরের কুড়িরডোব মাঠের লাখো মোমবাতি একসাথে জ্বলে ওঠে। মোমবাতি প্রজ্জ্বলনে আড়াই হাজার শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করেন। অন্ধকার ছাপিয়ে বাহারি ডিজাইনের আলোয় আলোকিত হয়ে যায় বিশাল মাঠ। শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতি সৌধ, বাংলা বর্ণমালা, আল্পনা, পাখিসহ গ্রাম বাংলার নানা ঐতিহ্য তুলে ধরা হয় এ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে। এ সময় ‘আমার ভায়ের রক্ত রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানের মধ্য দিয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের গণসঙ্গীত শুরু হয়। এর আগে মঙ্গল প্রদীপ জ্বলিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ।
নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার মোসাঃ সাদিরা খাতুন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নিজাম উদ্দিন খান নিলু, পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব কচি খন্দকার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মলয় কুন্ডু ও সাধারণ সম্পাদক শরফুর আলম লিটুসহ বরি মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
‘একুশের আলো’ নামক স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের তত্বাবধানে কয়েকশত সাংস্কৃতিক কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও শ্রমিক প্রায় এক মাস যাবৎ এ আয়োজনকে সফল করতে কাজ করছেন। ৬ একরের বিশাল কুরিরডোব মাঠে অন্যান্য বছরের মতো এবারও কলার গাছ এবং কাঠ দিয়ে শহীদ মিনার ও জাতীয় স্মৃতি সৌধ, বাংলা বর্ণমালা ও বিভিন্ন আল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। মোমবাতি প্রজ্জ্বলনে প্রায় তিন হাজার শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করে। নান্দনিক এ অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে নড়াইলসহ পার্শ্ববর্তী জেলার হাজার হাজার দর্শক উপস্থিত হন। কয়েক’শ পুলিশ, র্যাব, স্কাউট ও স্বেচ্ছাসেবক মাঠের চারপাশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়জিত ছিলেন। তবে করোনার কারনে ২০২১ ও ২০২২ সালে এ আয়োজন থমকে যায়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘একুশের আলো’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের আয়োজনে নড়াইল শহরের কুড়িরডোব মাঠে ব্যতিক্রমী এ কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়।
লাখো মোমবাতির দীপশিখায় ভাষা শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানালেন নড়াইলবাসী

