শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

পলাতক আসামি তারেক নাকি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের পথপ্রদর্শক

আরো খবর

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম অর্থনীতি ধ্বংসের কথা বলেছেন! তিনি কিছু দিন পূর্বে ‘পাকিস্তান আমলে ভালো ছিলাম’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। আজ ফখরুলের পেয়ারে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা কী? আর তার বিপরীতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগগ্রতি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে! ১৯৯৬-২০০১ সময়কালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুবর্ণধারা রচনা করেছিল ২০০১-২০০৬ সময়কালে বিএনপি আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে সেই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকে অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

 

তিনি বলেন, ‘দেশবাসী ভালো করেই জানে, বহুমাত্রিক সংকটে পর্যুদস্ত বিএনপি এখন জনগণ দ্বারা লাল কার্ড খেয়ে রাজনীতির মাঠে বাউন্ডারির বাইরে অবস্থান করছে। লাগাতার ভুল-রাজনীতির চোরাবালিতে আটকে থাকা বিএনপি ক্রমেই দেউলিয়া সংগঠনে পরিণত হচ্ছে।’

ওবায়দুল কাদের শুক্রবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার’ ও ‘বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের’ নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাতে এই বিবৃতি দেন ওবায়দুল কাদের।

‘তারেক রহমান বিএনপির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের পথ প্রদর্শক!’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দুর্নীতির বরপুত্র, একুশে আগস্টের খুনি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক, দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমান নাকি তাদের তথাকথিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের পথপ্রদর্শক! এর মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হয় বিএনপি নীতি ও আদর্শের রাজনীতির পথে না চলে অন্ধকারের কানাগলিতে অপরাজনীতির কূটকৌশলকে বেছে নিয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সরকার বা বাংলাদেশ কোনো সংকটে নেই। বরং ভয়াবহ সংকটে রয়েছে বিএনপি।’

তিনি বলেন, ‘আজ অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে বিএনপির কথা বলা জাতির সঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে বৈশ্বিক মন্দা ও সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলামের মনোবেদনা আমরা বুঝি, বাংলাদেশ পাকিস্তান কিংবা শ্রীলংকার মতো দেউলিয়া না হওয়ায় তাদের সুপ্ত-বাসনা মুখ থুবড়ে পড়েছে। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে বিভোর বিএনপির ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন ফিকে হয়ে পড়েছে।’

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে বিএনপি নেতারা উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে আজ সারা বিশ্বে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবসভ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ এই সংকটকে পুঁজি করে বিএনপি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে জনগণের যে কষ্ট হচ্ছে আমরা সবাই তা জানি। জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্যই সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্বল্প আয়ের মানুষকে স্বস্তি দিতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে সুলভমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ করছে।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ