শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আনন্দ মেলার নামে ২০ টাকার অবৈধ লটারি, নি:স্ব হচ্ছে দরিদ্র মানুষ

আরো খবর

ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা:সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা সদরে আনন্দ মেলার নামে চলছে ২০ টাকার অবৈধ লটারি টিকিট বাণিজ্য, স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডকায় এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও একদিকে, যেমন আয়োজকরা আইনের তোয়াক্কা করছে না অপরদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও ও কর্তৃপক্ষ অজানা কারনে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। গত ২৪ ফেব্রুয়অরি থেকে কলারোয়া উপজেলা ফুটবল মাঠে এই মেলা শুরু হয়েছে। লটারীর কারনে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ।

জেলা প্রশাসন কর্র্তৃক প্রদত্ত মেলার অনুমতি পত্রে দেখা গেছে, মাসব্যাপী আনন্দ মেলার অনুমতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও বিভিন্ন শর্তে জেলার কলারোয়া উপজেলায় প্রেসক্লাব (একাংশ) নামের একটি সাংবাদিক সংগঠনকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে, মেলার আয়োজকরা কোনো প্রকার আইনের তোয়াক্কা না করে মেলা প্রাঙ্গনে ঢোকার জন্য ‘আনন্দ মেলা’র লটারি বিক্রির নামে ২০ টাকা মূল্যের লটারির টিকিট কিনতে বাধ্য করছে মেলায় আগতদেরকে। এর প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার এলাকাবাসী মেলায় লটারি বন্ধ করতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এবং সেই খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তারপরও স্থানীয় প্রশাসন নির্বিকার।

জানা গেছে, সাতক্ষীরার কলারোয়ার (একাংশ) প্রেসক্লাবের আয়োজনে আনন্দ মেলার অনুমতি নিয়ে আয়োজকরা চালাচ্ছে ২০ টাকার অবৈধ লটারি টিকিট বাণিজ্য। কলারোয়া প্রেসক্লাবের (একাংশ) নামে জনৈক মোসলেম নামের এক ব্যীক্ত সভাপতি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরকে ম্যানেজ করে চালাচ্ছে অবৈধ লটারি টিকিট। লটারির নেশায় স্বর্বশান্ত হচ্ছে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ ও উঠতি যুবসমাজ।

সরজমিনে দেখা গেছে, রাত গভীর হলেই মেলায় চলছে নগ্ননৃত্য ও জুয়ার আসর। আবার সারাদিন ভ্যান ও ইজিবাইকে জেলা প্রত্যন্ত এলাকাায় লোভনীয় পুরষ্কার ঘোষণা করে মাইকে ২০ টাকা দামের লটারি টিকিট বিক্রি কমিশনে বিক্রি করছে ৫০টির অধিক ভ্যান ও অটোতে। এই লটারি কিনে সর্বশান্ত হচ্ছে খেটে খাওয়া নিন্মবিত্ত পরিবারের লোকজন। এলাকাবাসাী জোর দাবি জানিয়েছে ‘উঠাও বাচ্চা’ নামক লটারি বন্ধের।

এ বিষয়ে কলারোয়া প্রেসক্লাবের (একাংশ) সভাপতি দাবিদার মোসলেমের কাছে জানতে চাইলে তিনি লটারির কথা অকপটে স্বীকার করে বলেন, মেলায় সার্কাস ও যাত্রার অনুমোদন নেওয়া আছে জেলা প্রশাসনের। তবে, আর্থিক বিবেচনায় মেলায় লটারি ও জুয়াখেলা চালাচ্ছি সবাইকে ম্যানেজ করে। জেলা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি দেখছেন, তিনি আপনার সাথে দেখা করবেন। তিনি আরও বলেন জেলা প্রেসক্লাবেক তো আমরা দৈনিক ভিত্তিতে টাকা দিচ্ছি।

আনন্দ মেলা আয়োজকদের থেকে লিজ নেওয়া লটারীর পরিচালক খুলনার সোনাডাঙ্গার স্বপনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বাইরে টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি। এখন আমরা গেটে টিকিট বিক্রি করছি এবং গেট টিকিটে লটারি চলছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের এনডিসি বাপ্পী দত্ত রনি সাংবাদিকদের জানান, মেলার অনুমতি দেওয়া শুধুমাত্র সার্কাস ও যাত্রার জন্য, সেখানে কোনো প্রকার লটারির টিকিট বিক্রি করা যাবে না। আমরা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। প্রয়োজনে মেলা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

কলারোয়অ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুলী বিশ্বাস আনন্দ মেলায় অবৈধভাবে লটারির বিষয়ে বলেন, আমি লটারি বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি, টিকিটি বিক্রিকালে কয়েকটি অটো আটক করেছি। যারা মেলা পরিচালনা করছে তাদের বলেছি লটারি বন্ধ করার জন্য।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ