নিজস্ব প্রতিবেদক :মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম নারী শহিদ যশোরের চারুবালা করের ৫২তম শহিদ দিবস উপলেক্ষে শুক্রবার সকালে শহরের নীলগঞ্জ মহাশ্মশানে বটবৃরে নিচে প্রতীকী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে তার সমাধিস্থলের অস্তিত্ব না পাওয়ায় ক্ষোভ জানান তারা। এসময় নীলগঞ্জ মহাশ্মশান কমিটি এ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের ঘোষণা দেন।
পাকিস্তানের দুঃশাসন থেকে মুক্তির দাবিতে একাত্তরের ৩ মার্চ সকালে যশোর শহরের ঈদগাহ ময়দান থেকে মিছিল বের করেছিলেন জনতা। মিছিলটি শহরের দড়াটানা চত্বর, কাপুড়িয়াপট্টি, চৌরাস্তা হয়ে ঢোকে রেল রোডে। মিছিলটি শহরের ভোলাট্যাংক রোড, সার্কিট হাউজ হয়ে আবারও ঈদগাহে আসে। এ সময় শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে অসংখ্য মানুষ ঈদগাহে জড়ো হন। পাকবাহিনীর টেলিফোন ভবন দখলের খবরে জনগণ একত্রিত হয়ে সেখানে এসে বিােভ করতে থাকেন। টেলিফোন ভবনের ছাদে অবস্থানরত পাকসেনারা গুলি শুরু করে। ওই ভবনের পশ্চিমপাশের একটি বাড়িতে বসবাস করতেন নিঃসন্তান পূর্ণচন্দ্র কর ও তার স্ত্রী চারুবালা কর। গুলি চলাকালে বাড়ির ভেতরে ছিলেন চারুবালা। এ সময় পাকসেনাদের একটি গুলি ঘরের চাল ভেদ করে চারুবালার দেহে বিদ্ধ হয়। যশোর সদর হাসপাতালের মর্গে চারুবালার লাশ রেখে তালা মেরে দেয় পাকসেনারা। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা সন্ধ্যার দিকে মর্গের তালা ভেঙে চারুবালার লাশ বের করে আনেন। মিছিল সহকারে চারুবালার লাশ নীলগঞ্জ মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। সৎকার শেষে সেখানে সমাধিস্থ করা হয় তাকে।
কিন্তু সেই সমাধিস্থল বেদখল হয়ে গেছে। খুঁজে পাওয়া যায়নি সমাধিস্থলে স্থাপিত শহিদ চারুবালা করের স্মৃতিফলক। নীলগঞ্জ মহাশ্মশানের পাশে নদীর ধারে প্রগতি বালিকা বিদ্যালয়ের পেছনে মাটির সাথে মিশে আছে চারুবালা করের সমাধি; যার উপর দিয়ে বাড়ি তুলেছেন নীলগঞ্জ এলাকার এক বাসিন্দা। একপাশে শুধু এক লাইন ইটের সারি ছাড়া আর কিছুই নাই সেখানে। শেষ চিহ্নটুকুও আর নেই সেখানে।
তাই বরাবরের মতো এবছরও ৩ মার্চ সকালে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও নীলগঞ্জ মহাশ্মশান কমিটির উদ্যোগে নীলগঞ্জ মহাশ্মশান প্রাঙ্গণের এক বটগাছের বেদিতে পুস্পস্তবক অর্পন করে তার প্রতি প্রতীকি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান। এছাড়া শহিদ চারুবালা করের বিদেহী আত্মার শান্তিকামনা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়। একইসাথে চারুবালা করের নিহতস্থল এলাকার শহিদ সড়কটি ‘চারুবালা কর শহিদ সড়ক’ নামকরণ ও নীলগঞ্জ শ্মশানে চারুবালা করের দখলকৃত সমাধিস্থল উদ্ধার করার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
এ উপলেক্ষে আয়োজিত সংপ্তি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নীলগঞ্জ মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি সুখেন মজুমদার। একাত্তরের ৩ মার্চের ঘটনার প্রত্যদর্শী বীরমুক্তিযোদ্ধা ভীমসেন দাস স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা করেন। বক্তব্য রাখেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যশোরের সভাপতি হারুন অর রশীদ, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সুকুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু।

