নিজস্ব প্রতিবেদক: অভয়নরে ইজিবাইক চালক রাশেদ হত্যা ২৪ ঘন্টায় উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় নারীসহ ৪ জনকে গ্রেপতার করা হয়েছে। র্যাব এবং পিবিআই পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। এসময় ছিনতাই করা ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়। রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে চাঁচড়া এলাকা থেকে বেল্লাল হোসেন গ্রেফতার করে র্যাব। সে মাগুরার শালিখা উপজেলা সদরের একিন মোল্লার ছেলে। র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কমান্ডার এম নাজিউর রহমান জানান, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী এলাকার রাশেদ উদ্দিন ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
প্রতিদিনের ন্যায় গত ২ মার্চ সকালে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরদিন সকালে অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী এলাকার একটি মাছের ঘের থেকে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রাশেদের বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটনে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। গতকাল বেল্লাল হোসেনকে আটক ও তার হেফাজত থেকে রাশেদের ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই যশোরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে পিবিআইয়ের দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে গত২৪ ঘনটায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রাশেদ হত্যাকান্ডে জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো ঝিকরগাছার পারবাজার এলাকার মজিবর রহমানের মেয়ে জান্নাত আক্তার ওরফে আয়শা, বাঘারপাড়ার নিজাম উদ্দিনের ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে মিলন ও অভয়নগরের কোটা গ্রামের রিমন বিশ^াস ওরফে বাবু ।
পুলিশ জানায়, আটক জান্নাত আক্তার সংঘবদ্ধ ইজিবাইক ছিনতাই ও অজ্ঞান পার্টির সদস্য। তারা ইজিবাইক ও ভ্যান ছিনতাই করে পরস্পর যোগসাজসে ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে। আটক
মেহেদী হাসান, রিমন বিশ^াস রাশেদের ইজিবাইক ভাড়া ঠিক করে দেয়
এবং মেহেদী হাসান মিলনের সাথে পরিকল্পনা করে কিভাবে ইজিবাইকটি ছিনতাই করবে। সেই পরিকল্পনানুযায়ী
মেহেদী তার স্ত্রী জান্নাত আক্তার আয়েশাকে নিয়ে ভিকটিম রাশেদের ইজিবাইকটি রিজার্ভ ভাড়া
করে। মেহেদী হাসান মিলন ও জান্নাত আকতার আয়েশা রাশেদ উদ্দিনের ইজিবাইকে
চড়ে প্রথমে রাজগঞ্জ ঝাঁপা বাওড় এলাকায় বেড়াতে যায়। ঝাঁপা বাওড়ে থাকা ভাসমান ব্রীজে তারা কিছুক্ষণ
ঘোরাফেরা করে। একপর্যায়ে ইজিবাইক নিয়ে যশোর জেলার অভয়নগর থানাধীন ধোপাদী সাকিনস্থ উলুর বটতলা
হতে মশরহাটিগামী ইটের সলিং রাস্তার ডান পাশের্^ পৌছালে মেহেদী হাসান মিলন ইজিবাইক
থামিয়ে নিজের পরনে থাকা রাবারের বেল্ট খুলে ভিকটিম রাশেদের গলায় ফাঁস দিয়ে জোরে টেনে ধরে।
জান্নাত আকতার আয়েশা ভিকটিমের দুই পা চেপে ধরে। এসময় রাশেদ উদ্দিনেল শরীর নিস্তেজ হলে
মেহেদী হাসান মিলন ও তার স্ত্রী আয়েশা একত্রে ভিকটিমের মৃতদেহ ঘটনাস্থলের পাশে থাকা জনৈক মোঃ আজিজুর
রহমান সরদার এর মৎস্য ঘেরের পানির মধ্যে ফেলে দেয়। তারপর ভিকটিমের ইজিবাইক রাজারহাট এলাকায়
এনে মিলনের বন্ধুর নিকট বিক্রয় করে দেয়। পরে আসামী মেহেদী হাসান মিলন তার স্ত্রী
জান্নাত আকতার আয়েশাকে নিয়ে ঝিকরগছার কৃষ্ণনগর গ্রামে তার ভাড়া বাসায় চলে যায়।

