শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মশার কামড়ে নগরবাসীর ঘুম হারাম হলেও ঘুম ভাঙছেনা পৌরসভার

আরো খবর

এম.এইচ.উজ্জলঃ মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে যশোর পৌরবাসী। রেহাই পেতে বিভিন্ন উপায় বেছে নিতে হচ্ছে পৌরবাসী কে। তবে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে মশার যন্ত্রণা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলেন, দিনে-রাতে সবসময়ই মশারী নয়তো মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। শুধু মশারি টানিয়ে নয়, কয়েল ধরিয়েও মশা অত্যাচার থেকে রেহাই পাচ্ছেন না ভূক্তভোগীরা। একদিকে গরম অন্যদিকে মশার অত্যাচারে টিকে থাকা দায়। অনেকে অভিযোগ করেন, পৌরসভা মশক নিধনে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ঘরে-বাইরে, দোকানে সব জায়গাতেই দিনের বেলাতেই কয়েল জ্বালিয়ে মশা তাড়ানোর চেষ্টা চলছে। পৌরবাসীর অভিযোগ, ময়লা আবর্জনার সঠিক ব্যবস্থাপনা, ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং দীর্ঘদিন ধরে মশক নিধন কার্যক্রম না করায় ডেঙ্গুসহ নানা রোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যশোর পৌরসভা। অন্যদিকে পৌরসভার কর্মকর্তারা বলছেন আগের থেকে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নতি হয়েছে। মশা নিধনের কাজও খুবই দ্রুত শুরু করা হবে। পৌরসভার সচেতন মহলের অভিযোগ দীর্ঘদিন যাবত যশোর শহরে মশক নিধনের স্প্রে করা হয়নি। ফলে যশোরে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে মশা। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে ড্রেনে পানি এবং ময়লা জমে রয়েছে। ফলে সেখান থেকে মশার বংশ বিস্তার ঘটে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ময়লা আবর্জনা ডাস্টবিনের পাশে ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এখান থেকেও ছড়াচ্ছে মশার বংশ বিস্তার। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মশা নিধনে কোনো কার্যক্রম না থাকায় ব্যক্তিগত চেষ্টা আর মশার কামড় খেয়েই জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। পৌরসভার মশা নিধন কার্যক্রম বন্ধের কারণে মশার জীবাণুবাহী রোগের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এলাকার হাজার হাজার মানুষ। এর মধ্যে মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সর্বোচ্চ শঙ্কায় রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আফরোজা আক্তার বলেন, সন্ধ্যা নামার পর থেকেই ঘরে মশার উপদ্রব বেড়ে যাচ্ছে। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখলেও মশা কমছে না। পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আশিকুর রহমান শিমুল বলেন, শুধু রাতে না, দিনেও ঘর একটু অন্ধকার হলেই মশা কামড়াচ্ছে। ফলে অনেক সময় দিনেও মশারি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোকসিমুল বারী অপু জানান, মশা ও মশার লাভা ধংস করার উন্নত মানের ওষুধ ইনপোর্ট দেরিতে হওয়ার কারনে মশোক নিধন কার্যক্রম এবার কিছুটা দেরিতে শুরু হচ্ছে। তবে আগামী রবিবার থেকে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ভাবে একসাথে শুরু হবে যা একসপ্তাহ চলবে। এও উত্তম কুমার কুন্ডু জানান, মশক নিধন অভিযান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী রবিবার থেকে একযোগে নয়টি ওয়ার্ডে মশক নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এক সপ্তাহব্যাপী প্রতিটা ওয়ার্ডে তিনটি করে মশক নিধন মেশিন চলবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ