শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

অন্ধরা দেখালেন- তারাও পারে ক্রিকেট খেলতে

আরো খবর

এম.এইচ.উজ্জলঃ ক্রিকেট বলতে আমরা সাধারণত সুস্থ্য-সবল মানুষের খেলাকে বুঝি। সেটা যেমন পুরুষরা খেলেন শত বছর আগ থেকে, তেমনি নারীরাও খেলছেন। তবে এদের বাইরেও ক্রিকেট খেলেন একটা শ্রেণি। তারা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণি। তারা প্রতিবন্ধী।

এই প্রতিবন্ধীদের ক্রিকেট দুইরকম। বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্রিকেট (ক্রিকেট ফর দ্য পারসন উইথ ডিসঅ্যাবিলিটি) এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ক্রিকেট (ব্লাইন্ড ক্রিকেট)। এর মধ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী/দৃষ্টিহীন বা ব্লাইন্ড ক্রিকেট বেশ পরিচিত।

আর এমনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে যশোরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল টি-২০ ক্রিকেট ম্যাচ। যশোর ব্লাইন্ড কাব ও বাংলাদেশ ব্লাইন্ড ক্রিকেট ফেডারেশনের আযোজনে শনিবার বিকালে সদরের উপশহর বাদশা ফয়সাল স্কুল মাঠে এই খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ব্লাইন্ড ক্রিকেট ফেডারেশনের মহাসচিব তাইজুদ্দিন আহম্মেদ।

খেলাতে ১১ জন ক্রিকেট খেলোয়াড়ের মধ্যে ৪ জন বি-১ ক্যাটাগরির অর্থাৎ তারা সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তিহীন, কিছুই দেখতে পায় না। বি-২ ক্যাটাগরির ৩ জন। এরা ৭ মিটার পর্যন্ত ণস্থায়ীভাবে কিছুই দেখতে পারে না। আর বি-৩ এ ৪ জন খেলোয়াড় ছিল যারা ১৫ মিটার পর্যন্ত স্থায়ীভাবে দেখতে পারেন।

সাধারণত বি-৩ এর খেলোয়াড়রা থার্ডম্যান এ ফিল্ডিং করে থাকে। উইকেট কিপিংয়ে বি-২/বি-৩ খেলোয়াড়দের মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন। সব ক্যাটাগরির খেলোয়াড় বোলিং করতে পারেন। বি-১ ক্যাটাগরির খেলোয়াড় ব্যাটিং করলে তারা ৪ মারলে ৮ রান যোগ হয়। এটি আন্তর্জাতিক ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাউন্সিলের আইন।

এ খেলাতে যশোর ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাব ও খুলনা ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাব অংশ গ্রহন করেন। খেলায় প্রথমে খুলনা ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাব ব্রাটিং করে ২০ ওভারে শেষে ৮ ইউকেটে ১৭২ রান করেন। পরে ১৭২ রানের টার্গেট নিয়ে মাঠে নামে যশোর ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাব। খেলার ভিতর চলে চরম উত্তেজনা। উত্তেজনার মধ্যে যশোর ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাব ৫ ইউকেট হারিয়ে ১৪ ওভারে তুলে নেয় ১৭৫ রান। খেলা শেষে প্রথম পুরুস্কার হাতে পেয়ে আনন্দের ভাসতে থাকে যশোর ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাব। চারিদিকে জয়ধ্বণি বাজতে থাকে যশোর ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাবের।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ