বিশেষ প্রতিনিধি
যশোরে নির্বাচনী সহিংসতায় দুজনের প্রাণহানি আর প্রার্থীসহ শতাধিক ব্যক্তির আহতের ঘটনায় চাপা আতংক ছিলো ভোটারদের মাঝে। এরইমধ্যে ভোটের আগের রাতে বেশ কয়েকটি স্থানে বোমাবাজির ঘটনায় সৃষ্টি হয় থমথমে অবস্থা। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে বদলে যায় পরিস্থিতি। আতংক নিয়েই কেন্দ্রে আসতে থাকা ভোটাররা কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থার মধ্যেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। যা ক্রমেই আতংক থেকে উৎসবে রুপ নেয়। ভোটের আগের রাতে যশোরের শার্শার রুদ্রপুরে সংঘর্ষে নিহত হন কুতুবউদ্দিন আহমেদ। ওই ঘটনায় আরও ৫জন আহত হন। ডিহি গ্রামেও সংঘর্ষে ৪ জন আহত হন। ভোটের দিন সকালে বাঘারপাড়ার জহুরপুর ও মনিরামপুরের খানপুর ও পাড়দিয়ায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে শার্শার ডিহি ও গোড়পাড়ায় আরও ৫ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। নারিকেলবাড়িয়া, জহুরপুর, নিজামপুর, ডিহিসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ভোটারদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সরেজমিনে শার্শার ছুটিপুর, বাগআচড়া,নাভারণ, ছাতিয়ানতলা, দরাজহাট, রায়পুর, বন্দবিলা, দোহাকুলা, নারিকেলবাড়িয়াসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে ভোটারদের সরব উপস্থিতি। ছাতিয়ানতলার রোকেয়া বেগম বলেন, সকালে মনে হয়েছিলো ভোট দিতে যাবো না। পরে বাড়ির লোক এসে বললো ম্যালা পুলিশ আছে, বিজিবিও আইছে। ভোট দিতে চলো। তার কথা শুনেই ভোট দিতে আসলাম। নারিকেলবাড়িয়ার দুলাল মন্ডল বলেন, সকালে পরিস্থিতি একটু গরম হয়ে গিছিলো। পরে একের পর এক র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, ম্যাজিস্ট্রেট আসতে থাকে। পরিবেশ আবার শান্ত হয়ে যায়। ভোট দিতি কোন সমস্যা হয়নি। অনেক মানুষ আয়েছে। ম্যালা মজা হয়েছে। বন্দবিলার জয়নাল খান বলেন, এবার ভোটে উৎসব লেগেছে। অনেক দিন পর ভোটের মাঠে এসে ভালো লেগেছে। নারী-পুরুষ সবাই ভোট দিতে এসেছে। বেলা ১১টার মধ্যে সাদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রায় ৪০ ভাগ ভোট পড়েছে। বাবলু মন্ডল বলেন, রাত থেকেই আমরা এক ধরণের আতংকে ছিলাম। ভোটের আগে অনেক হামলা, হুমকি এসেছিলো। ভোট সুষ্ঠু হবে কি-না তা নিয়ে সকলের ভেতরই শংকা ছিলো। মারামারি হতে পারে এই ভয়ে অনেকেই সকালে কেন্দ্রে আসেনি। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে। এসময় অনেক মানুষ ভোট দিতে আসে। এদিকে যশোরের তিন উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে মোট ২ হাজার ৫শ’ ৯২ জন পুলিশ সদস্য, ৫ হাজার ৭শ’ ৯৭ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও মনিরামপুরে ১৬টি, শার্শায় ১০টি এবং বাঘারপাড়ায় ৯টি করে পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্বে ছিলো। এছাড়া ১৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্যর পাশাপাশি ২৬ জন বিচারিক এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসনের এই নিরপেক্ষ অবস্থানে আরো একটি উৎসবমুখর পরিবেশের নির্বাচন দেখল যশোরের মানুষ।
