রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

১৫ বছর পর কমিটি পাবে যশোর, ২৩ জানুয়ারি জেলা যুবলীগের সম্মেলন

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ২৩ জানুয়ারি যশোর জেলা যুবলীগের সম্মেলন অুনষ্ঠিত হবে। সম্মেলনটি সম্পন্ন হলে মেয়াদ উত্তীর্ণের ১৫ বছর পর কমিটি পাবে যশোর জেলা। বুধবার যশোর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় এ ঘোষণা দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সোহেল উদ্দিন। যশোর সিসিটিএস’র সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে জানয়ারি মাসের মধ্যেই যশোরের সকল উপজেলা ও পৌর যুবলীগের ইউনিটগুলো গঠনেরও নির্দেশনা দেয়া হয় সভা থেকে। জেলা যুবলীগের নেতারা জানিয়েছেন, ২০০৩ সালের ১৯ জুলাই তিন বছরের জন্য যশোর জেলা যুবলীগের সম্মেলন হয়। এতে মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীকে সভাপতি ও জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা যুবলীগের কমিটি হয়। ৫৩ সদস্যের এই কমিটির মেয়াদ ২০০৬ সালে শেষ হয়। এরপর পেরিয়ে গেছে ১৫ বছর। ওই কমিটির কমিটির সভাপতি পদত্যাগ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন। আর সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পদের সাথে যুবলীগের পদেও যুক্ত রয়েছেন। একই অবস্থা উপজেলা যুবলীগের কমিটিগুলোরও। সেই কমিটির শীর্ষ নেতারা এখন মূল দলের দায়িত্বে। অনেকে আবার মারা গেছেন। কেউবা নিষ্ক্রিয় হয়েছেন। অন্যদিকে বছরের পর বছর কমিটি না হওয়ায় ঝড়ে গেছেন অনেক প্রতিশ্রুতিশীল যুব ও ছাত্র নেতা। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ২১ মার্চ যশোর সদর ও শহর যুবলীগ এবং ২৯ মার্চ বাঘারপাড়া ও অভয়নগর উপজেলা এবং এপ্রিল ও মে মাসে মণিরামপুর, কেশবপুর, চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলা যুবলীগের তিন মাসমেয়াদী আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় যুবলীগ। ওই সময় বেশ কয়েকটি উপজেলায় যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে পকেট কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরপর চার বছর পার হলেও দায়িত্ব পালন করছে ওই আহবায়ক কমিটি। এসব কমিটির নেতাদের অনেকের বিরুদ্ধেই হত্যা, বোমাবাজি, চাঁদাবাজি, ত্রাণের চাল চুরিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। অনেকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন।

যুবলীগের নেতৃত্বে আনা হবে সৎ যোগ্যদের-শেখ সোহেল
নিজস্ব প্রতিবেদক : যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সোহেল উদ্দিন বলেন, শেখ হাসিনা ১৩ বছর আওয়ামীলগকে টিকিয়ে রেখেছেন। আর কেউ না। তিনি দেশটিকে আগলে রেখেছেন, উন্নয়ন করেছেন। বিশ্বে যদি এমন আরও ৫ জন শেখ হাসিনা থাকতেন, তাহলে সারা বিশ্বেই পরিবর্তন ঘটতো। উন্নয়নের জোয়ার তৈরি হতো। বুধবার যশোর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় এ কথা বলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সোহেল উদ্দিন। যশোর সিসিটিএস’র সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে আগামী ২৩ জানুয়ারি যশোর জেলা যুবলীগের সম্মেলন অুনষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। সম্মেলনটি সম্পন্ন হলে মেয়াদ উত্তীর্ণের ১৫ বছর পর কমিটি পাবে যশোর জেলা। যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সোহেল উদ্দিন বলেন, আমরা যোগ্যদের ক্ষমতায় বসাবো। আপনারা সৎ ও যোগ্যদের ব্যাপারে সুপারিশ করেন। আমরা সেটি বিবেচনা করে দেখাবো। আপনারা হতাশ হবেন না। বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বাস করে ঠকেনি। আপনারাও ঠকবেন না। এখন বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে বিশ্বাস করে দেখেন, আপনারাও ঠকবেন না। প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সোহেল উদ্দিন আরও বলেন, শুধু ৭৫’এ’ই বঙ্গবন্ধু পরিবারের ওপর হামলা হয়নি। এরপরও একাধিকবার আঘাত এসেছে। প্রধানমন্ত্রীকে আঘাত করা হয়েছে। আমাদের পরিবারের ওপরও বারবার আঘাত এসেছে। ওয়ান ইলেভেনের সময়ও কারাবরণ করতে হয়েছে। কিন্তু আমরা থেমে থাকিনি। আমাদের পরিবার থেমে থাকেনি। শেখ সোহেল উদ্দিন বলেন, এখন আমাদের সাথে যুবলীগ রয়েছে। যতই আঘাত আসুক, তারা আমাদের রক্ষা করেছে, এখনও করবে। আপনারা প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরবেন। এভাবেই আমরা দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবো। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা তাহলেই প্রতিষ্ঠিত হবে। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. ড. শামীম আল সাইফুল সোহাগ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আনোয়ার হোসেন, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য বেলাল হোসেন, নাজমুল হাসান, হুমায়ুন সুলতান, আবদুল্লাহ রানা, অমিত কুমার বসু প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন জেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী। পরিচালনায় ছিলেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। এসময় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক অশোক বোস, মনিরামপুরের আহবায়ক উত্তম চক্রবর্তী, চেীগাছার আহবায়ক দেবাশীষ দাস মিশ্র, কেশবপুরের আহবায়ক শাহিদুজ্জামান শহিদ, অভয়নগরের আহবায়ক তালিম হোসেন, বাঘারপাড়ার আহবায়ক রাজীব রায়, ঝিকগাছার যুগ্ম আহবায়ক আব্দুস সালাম প্রমুখ। এছাড়াও জেলা, সকল উপজেলা ও পৌরসভার নেতৃবৃন্দ বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ