ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী আর নেই। বুধবার ভোর রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। নূরে আলম সিদ্দিকীর ছেলে এবং ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী এ তথ্য জানিয়েছেন। তাহজীব আলম সিদ্দিকী জানান, বুধবার ভোর ৪ টার দিকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূরে আলম সিদ্দিকীর মৃত্যু হয়। মৃত্যুু কালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহি রেখে গেছেন। নূরে আলম সিদ্দিকী ১৯৪০ সালের ২৬ মে ঝিনাইদহে জন্মগ্রহন করেন।
সত্তরের দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা নূরে আলম সিদ্দিকী ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রেীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। এরপর স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছয় দফা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তৎকালীন যশোর-২ (বর্তমানে ঝিনাইদহ-২) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।নূরে আলম সিদ্দিকীর প্রেস সচিব অনিকেত রাজেশ বলেন, বুধবার (২৯ মার্চ) ভোর ৪টা ৩৭ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূরে আলম মারা যান। সকাল ১০টায় তার মরদেহ হেলিকপ্টারে করে ঝিনাইদহে নেওয়া হয়েছে। সেখানে জানাজার পর হেলিকপ্টারে করে আবারো তাকে ঢাকায় আনা হবে। বাদ আছর গুলশানের সেন্ট্রাল মসজিদে জানাজা হবে। এ সময় নূরে আলম সিদ্দিকীকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হবে। এরপর সাভারে নিজের করা মসজিদের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
নূরে আলম সিদ্দিকী ঝিনাইদহ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। সত্তরের দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা নূরে আলম সিদ্দিকী ১৯৭০-১৯৭২ মেয়াদে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মুক্তিযুদ্ধের চার খলিফার একজন খ্যাত নূরে আলম সিদ্দিকী মুজিববাহিনীর অন্যতম কর্ণধার ছিলেন।
ভাষা আন্দোলন ও ছয় দফা আন্দোলনে অংশ গ্রহন ছাড়াও তৎকালীন সব রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন নূরে আলম সিদ্দিকী। তিনি ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন যশোর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে অংশ নিয়েছিলেন নূরে আলম সিদ্দিকী। নূরে আলম সিদ্দিকী ১৯৪০ সালের ২৬ মে ঝিনাইদহ জেলায় জন্ম গ্রহন করেন।
নূরে আলম সিদ্দিকীর বড় ছেলে ও সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী বলেন, বুধবার নূরে আলম আলম সিদ্দিকীর মরদেহ ঝিনাইদহে তাঁর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জানাজার পর গাজীপুরে প্রয়াত নূরে আলম সিদ্দিকী প্রতিষ্ঠিত নবী টেক্সটাইল ও ডরিন গার্মেন্টেসের কাছের মসজিদের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে। এটা তাঁর ইচ্ছা ছিল।

