শার্শা প্রতিনিধি
যশোরের শার্শায় শতবর্ষি মা কুলছুম বিবিকে ১০বছর ধরে শিকল আর খুটির সাথে পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছে। স্বামী সেফাতুল্লাহ মারা গেছে নেক আগেই। ছয়টি ছেলে মেয়ে এখনো জীবিত,শুধু একটি মেয়ে করিমন বেগম ছাড়া,খোঁজ খবর রাখেন না কেউ অনেকে বলে পাগল হয়েগেছে। কেউ বলে দৃষ্টি লাগা,আপনজনদের অবহেলায় এ অসহায় মা ভুলন্ঠিত হচ্ছে মাঠিতে।
খুটিতে বাধা শিখল খুলে পায়ে তালাবাধা শিকল টেনে হেচড়ে অনেক সময় যায় একটি রুটির জন্যে পাশের চায়ের দোকানে। প্রায় চলন শক্তিহীন বৃদ্ধা জননী,হাত বাড়িয়ে প্রার্থনা করেন রুটির,খেতে চায় বারবার,কিন্ত তার মেয়ের কাছে তিনি বন্ধি অবস্থায়ে আছেন দীর্ঘদিন। মেয়ের সংসারে অভাব অনাটন। কে নেই কার খবর-ধুকে ধুকে মৃত্যু মুখে পতিত হচ্ছে বৃদ্ধা মা।
তবে বৃদ্ধা মায়ের লালন পালন করে আসছেন যে মেয়ে করিমন বেগম জীবন জিবিকার তাগিদে থাকেন বাড়ীর বাইরে। তাই মাকে শিকলে বেধে রেখেযান। তবে বাসায় সে খোজ নেন তিনি করেন পরিচর্য্যা
আলী কদম ও আয়েশা বেগম বৃদ্ধা মাকে দেখেই হয়ে পড়েস আবেগ আপ্লত। তারা বলেন মায়ের মমতা আদর স্নেহ ভালবাসা সেতো ভুলার নয়। যারা হারিয়েছে মা তারার বোঝেন মা কি সম্পদ। যার তুলনা হয়না কোন কিছুতে। সারমিন সুলতানা বিথি মায়ের ছবি দেখেই কবিতার ছলে বলেন-মা মা ও আমার মাগো, কেন এত কষ্ট? কেন এত দুর্ভোগ,কেন এত অশান্তি তুমি যে আমার গর্ভধারিনী মা,তিনশ দিনের উর্ধে তোমার গর্ভে কত কষ্টে ব্যাথা বেদনা ভুলে মায়া জলে আবদ্ধ করে রেখেছিলে উদরে,আজ এসেছি আমি পৃথিবীতে, দেখিয়েছ সপ্ন আছি কত হয়তো সুখ ও শান্তি তে, ক্ষমা কর জননী, পারিনি তোমার যথাযথ সম্মান মর্যদা সেবা আদর যতœ ও লালন পালন করতে, ও আমার মা তোমার নাভির শিকলে মায়ায় ভরিয়ে রেখেছিলে আমাকে,দেখেছিলে কত সপ্ন।
এসেছি আমি পৃথিবীতে এরই প্রতিদাম মা তুমি কি পেলে,শিকলে বেধে রাখাহলো ১০বছর তোমাকে,মাটিতে পড়েছ লুটিয়ে, ঝড় বৃষ্টিতে ধুলাবালিতে ও চোখের নোনা জলে হয়ে গেছ একাকার। ওমা তুমিতো গর্ভে রেখেছিলে ঝড়বৃষ্টি কাদাপানিতে,মায়াবী ললাটে। আজ কেন মা জননীর ব্যাথায় গাঁথা এমন করুন চিত্র। দানশীল ব্যাক্তী জনপ্রতিনিধি সমাজসেবক-প্রশাসন কেউ কি দেখেনা এসব মায়ের কান্না। খোজ নেই না কেউ নেইনি এখন্ও। কোথায় সমাজ সেবা। এনজিও সংগঠন। কেদে ফেরে মায়ের আহাযারি। কে আছেন দেখবে মাকে। শান্তি পাবে মা। হয় যেন দৃষ্টান্ত।
যশোরের শার্শায় ১০বছর শিকলেবাধা শতবর্ষি মা

