রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মায়ের কবর জিয়ারতে যাওয়ার পথে পানিতে ডুবে মৃত্যু

আরো খবর

 

মায়ের কবর জিয়ারতের জন্য বাওড় সাঁতরে ভারতে যাবার চেষ্টা করেছিলেন ছেলে। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অবৈধভাবে ভারত যাবার চেষ্টাকালে পানিতে ডুবে মারা যান তিনি। যশোরের চৌগাছার সীমান্তপথে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার পথে পানিতে ডুবে মারা গেছেন রফিকুল ইসলাম জনি (৫৫) নামে এক প্রকৌশলী।
শুক্রবার ভোরে যশোরের চৌগাছা উপজেলার মাশিলা সীমান্তের গদাধরপুর বাওড়ে ভাসমান অবস্থায় রফিকুল ইসলাম জনি (৫৫) নামের ঐ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ঢাকার ৭০৬ বড় মগবাজারের বাসিন্দা ছিলেন।
নিহতের বোনের ছেলে যশোর সরকারি পলিটেকনিক কলেজের অধ্যক্ষ (পিআরএল) মাশরেকুল ইসলাম বলেন, রফিকুল ইসলাম একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী। তার স্ত্রী কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা। তিনি কয়েকদিন আগে যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ায় আমার বাড়ির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ তদারকি করতে আসেন। ২-৩ আগে সে (রফিকুল ইসলাম মাশরেকুল ইসলামের থেকে বয়সে ছোট) আমাকে বলে মামা আমি তো মায়ের কবর (ভারতে অবস্থিত) জিয়ারত করতে যাব। কিন্তু পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আমি তাকে বলি আমি ঢাকায় সচিবালয়ে যাচ্ছি। এসে তোমার পাসপোর্টের বিষয়টি দেখবো। এরই মধ্যে সে গত বুধবার যশোর থেকে ঝিকরগাছায় তার ভায়ের মেয়ের বাড়িতে যায়। সেখান থেকে ভারতে খালাতো ভাই মোহনের সাথে যোগাযোগ করে চৌগাছার সীমান্ত পার হয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। ভারতে যাওয়ার সময় পানিতে ডুবে মারা যায় বলে মোহনের কাছ থেকে মুঠোফোনে জেনে থানায় এসেছি।
প্রত্যক্ষদর্শী গদাধরপুর বাওড়ের নাইটগার্ড শাহিন ও নওফেল বলেন, রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে প্রতিদিনের মতো নৌকায় চড়ে বাওড় পাহারা দেয়ার সময় নৌকা থেকে দেখি বাওড়ের গদাধরপুর মসজিদ ঘাটের পাশে একটি মানুষের দেহ পড়ে আছে। মানুষের দেহ নিশ্চিত হয়ে মাশিলা বিজিবি ক্যাম্পে মুঠোফোনে খবর দিই। বিজিবি সদস্যরা থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেন।
গদাধরপুর গ্রামের মৃত খলিলের ছেলে শান্তি জানান, ভারতের বয়রায় নানা বাড়ি হওয়ার সুবাদে সেখানকার অভি নামে দালালের সাথে মাঝেমধ্যে মুঠোফোনে কথা হতো। বৃহস্পতিবার সে মুঠোফোনে জানায় একজন লোক আসবে। তাকে ভারতে নিতে হবে। পরে দালাল অভি এসে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মসজিদ ঘাট থেকে রফিকুল ইসলামকে নিয়ে বাওড় দিয়ে সাঁতরিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিছুক্ষণ পরে সে ফোন দিয়ে বলে যাকে নিয়ে যাচ্ছিলাম সে হাঁসপাশ (পানিতে ডুবে হাবুডুবু করা) করছিল। যেখান থেকে নিয়ে এসেছিলাম সেখানেই তাকে রেখে এসেছি। পরে বিজিবি সেখানে যায়। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।
চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ সাংবাদিকদদের বলেন, মাশিলা ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যদের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধারের পর সুরাতহাল করা হয়। এরপর অনুসন্ধানে জানা যায় তিনি পাসপোর্ট ছাড়া অবৈধভাবে দালালের মাধ্যমে বাওড় পার হয়ে ভারতে যাওয়ার পথে পানিতে ডুবে মারা যান। পরে দালালরা লাশটি ঘটনাস্থলে রেখে যায়। ভারতে তার খালাতো ভাইয়ের সাথে কথা বলে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে লাশটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য শুক্রবার দুপুরে লাশ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ