শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

 গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের কার্যমতা তলানিতে

আরো খবর

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: গঙ্গা-কপোতা সেচ প্রকল্প দিন দিন কার্যকারিতা হারাচ্ছে ।
এতে ব্যাহত হচ্ছে সেচ খালের আওতাধীন জমির ফসল উৎপাদন। পানি
না পেয়ে ভরসা করতে হচ্ছে ডিজেল চালিত সেচ পাম্পে। ফলে
বাড়ছে উৎপাদন খরচ। অযতœ-অবহেলায় গঙ্গা-কপোতা সেচ
প্রকল্পের পানি আসার গেট, শুকনো হয়ে আছে মাঠঘাট। পানি
উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, ১৯৬২ সাল থেকে
কুষ্টিয়া,চুয়াডাঙ্গা ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ১৩টি উপজেলার
প্রায় ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে স্বল্প খরচে সেচ সুবিধা দিয়ে
আসছে দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতা সেচ প্রকল্প। এর আওতায়
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু, সদর ও শৈলকুপা উপজেলায় আবাদি জমির
পরিমাণ ৩৩ হাজার ৮৯৯ হেক্টর। গত বছর সেচ ল্যমাত্রা ১৮ হাজার
হেক্টর হলেও এ বছর তার পরিমাণ শূন্য। এ বছর ফসল উৎপাদন করতে
ডিজেল চালিত সেচ পাম্পের পানি ব্যবহার করতে হয়েছে
প্রতিটি কৃষকের। ফলে বেড়েছে তাদের উৎপাদন খরচও। বছরের পর বছর
পানি আসার গেটটি শুকিয়ে তলানিতে পরিনত হয়েছে।
হরিণাকুন্ডু উপজেলার সাতব্রিজ এলাকার কৃষক রাজিবুল হক
বলেন, ‘গত বছর ক্যানেলে পানি দিয়েছিল। কিন্তু এবার আমরা
পানি পাচ্ছি না। পানি না পেয়ে এবার ধান উৎপাদন ভালো হয়নি।
কিছুদিন পর পাটেও পানি দিতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পানি
দেওয়া হয়নি। আমরা কীভাবে ফসল উৎপাদন করব।’ একই এলাকার
কৃষক মাহিন হোসেন বলেন, ‘জিকে ক্যানেলে আগে খুব ভালো
সেবা দিত। প্রথম দিকে খাল গুলোতে প্রায় সব সময় পানি থাকত।
আমরা ফসলও ভালো উৎপাদন করেছি। কিন্তু এখন আর পানি ঠিক মত
েেদওয়া হয় না। খালগুলো সংস্কার করা হলে আমরা আবারও পানি
ঠিকমতো পাব।’গাড়াগঞ্জ এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান বলেন,
‘খাল গুলো ভরাট হয়ে গেছে। ব্রিজের রেগুলেটর গুলো বিকল হয়ে
গেছে। আর পাড় দখল করে দোকানপাট করা হয়েছে। ফলে আগের
মতো জিকে সেচ খালের পানি সরবরাহ হচ্ছে না।’ কর্তৃপক্ষ এখন
আর দেখা শুনা করে না, ফলে প্রতিটি রেগুলেটর বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ প্রধান
সম্প্রসারন কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালেব বলেন, ‘দীর্ঘদিন হয়ে
যাওয়া জিকে সেচ প্রকল্প আগের মতো সেবা দিতে পারছে না।
সেচ প্রকল্পটি আগের অবস্থায় ফেরাতে ডিপিপি প্রনয়নের কাজ
চলছে। ডিপিপি পাস হলেই কাজ শুরু হবে। তখন আগের মতো
সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ