শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ভূমধ্যসাগরে আবারও নৌকাডুবি, উপকূলে ৫৭ মরদেহ

আরো খবর

একাত্তর ডেস্ক:ভূমধ্যসাগরে আবারও মর্মান্তিক নৌকাডুবি। লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় দুটি শহরের উপকূলে অন্তত ৫৭ অভিবাসী ইউরোপ যাওয়ার পথে মারা গেছেন। বুধবার পরপর দুটি নৌকা ডুবে এই বিশাল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কোস্টগার্ড ৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করলেও নৌকাগুলিতে যাত্রী আরও বেশি ছিল বলে জানা গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ২টায় ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করে নৌকাগুলো। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, শুধুমাত্র একটি নৌকাতেই ৮০ জন যাত্রী ছিল। সে হিসেবে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বেঁচে ফেরা একজন জানান, নৌকা ডুবে যেতে থাকলে এর ভেতরে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। তা সত্ত্বেও নৌকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি নৌকা থামাতে রাজি হননি। নৌকা ডুবার পরও সবাই ভেসে থাকার চেষ্টা করছিল।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু তার চোখের সামনে একজন একজন করে সবাই ডুবে যায়। তবে তিনি উদ্ধারের আশায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

লিবিয়ার কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা ফাতি আল-জায়ানি জানান, পূর্ব ত্রিপোলির কারাবুল্লি থেকে এক শিশুসহ ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, অভিবাসনপ্রত্যাশীরা পাকিস্তান, সিরিয়া, তিউনিসিয়া ও মিশর থেকে এসেছিলেন। পশ্চিম ত্রিপোলির সাবরাথায় অবস্থানরত রেড ক্রিসেন্টের এক ত্রাণকর্মী জানান, তারা গত ছয় দিনে সমুদ্রতট থেকে ৪৬টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। মৃতদের সবাই একই নৌকার যাত্রী ও অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশী। সামনের দিনগুলোয় আরও মরদেহ ভেসে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই ত্রাণকর্মী।

চলতি মাসে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৩ সালে এ পর্যন্ত ৪৪১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থী ভূমধ্যসাগরের মধ্য দিয়ে উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে পানিতে ডুবে মারা গেছে। গত ছয় বছরে তিন মাসের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা এটাই সর্বোচ্চ। ২০১১ সালে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সমর্থনপুষ্ট বিরোধী একটি গোষ্ঠীর হাতে উৎখাত হন স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি। এরপর থেকেই অস্থির হয়ে পড়ে লিবিয়া। ধ্বংস হয়ে যায় এর অর্থনীতি। এটি পরিণত হয় ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশের প্রধান কেন্দ্রে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ