শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

কেশবপপুরে ব্রি-বঙ্গবন্ধু ধানের বাম্পার ফলন

আরো খবর

কেশবপুর প্রতিনিধি: প্রদর্শনী প্লটে আবাদকৃত ব্রি-বঙ্গবন্ধু ১০০ জাতের ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অধিক ফলনের আশায় স্থানীয় কৃষক পর্যায়ে তাই ব্রি-বঙ্গবন্ধু ১০০ জাতের ধান আবাদের জন্য বেশ সাড়া জাগিয়েছে। জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলার চিনাটোলা বাজারের অন্যতম বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সবুজ বীজ ভান্ডার চলতি বছরে ভিত্তি বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউিট থেকে ব্রি-বঙ্গবন্ধু ১০০ জাতের ২০ কেজি ধানের বীজ সংগ্রহ করে কেশবপপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের ইমাননগর মাঠে কৃষক কাওছার আলীর ১২৬ শতক ও আলতাপ হোসেনের ৮৪ শতক জমিতে বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী প্লট হিসেবে আবাদ করে অন্য ধান থেকে কয়েকগুণ বেশি ফলন পেয়েছেন। গত কাল বিকেলে সরেজমিন উপজেলার ইমাননগর মাঠে যেয়ে দেখা যায়, বোরো চাষী কাওছার আলী ও আলতাপ হোসেনের ব্রি-বঙ্গবন্ধু ১০০ জাতের ধান ক্ষেত থোকায় থোকায় সোনালী ধানের শীষে ভরে গেছে। অধিক উচ্চতার এই ধান গাছ বেশ শক্ত প্রকৃতির। প্রতি কাঠা জমিতে দুই মন করে ধানের ফলন হবে বলে কৃষকরা ধারনা করছেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউিটের তথ্য মতে জানা গেছে, ব্রি-বঙ্গবন্ধু ১০০ জাতের ধানের বৈশিষ্ট্য হলো- (১) এই ধানের চাল মাঝারি চিকন ও সাদা (২) বীজতলায় বীজ বপনকাল ১৫ নভেমম্ব-৩০ নভেম্বর (৩) চারার বয়স ৩৫-৪০ দিন (৪) ধান গাছের উচ্চতা ১০১ সে.মিঃ (৫) ধানের মোট আবাদ সময়কাল ১৪৮ দিন (৬) ফলন প্রতি একরে ৩৫০০ কেজির অধিক (৭) গাছের বৃদ্ধি পর্যায়ে আকার-আকৃতি ব্রি -৭৪ ধানের মতো। জাতটিতে জিংকের পরিমাণ প্রতি কেজিতে ২৫.৭ মিঃ গ্রাম। যা জিংকের অভাব পূরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এ সব বৈশিষ্ট্য ও গুণাগুণ সমৃদ্ধ ব্রি-বঙ্গবন্ধু ১০০ জাতের ধানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এই জাতের ধান থেকে ভিত্তি বীজ উৎপাদন করা সম্ভব। ব্রি-১০০ জাতের ধানের ভিত্তি বীজ উৎপাদনের উদ্যোক্তা সবুজ কৃষি ভান্ডার এবার ২ একর জমির সমুদয় ধান বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে ক্রয় করে ভিত্তি বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করে আগামী মৌসুমে কৃষক পর্যায়ে বিক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছেন। সবুজ কৃষি ভান্ডারের পরিচালক মেহেদি হাসান সবুজ জানান, ২০১৭ সালে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী যশোর এর তত্বাবধানে আমাদের প্রতিষ্ঠান ব্রি-জাতের বিভিন্ন ধানের বীজ উৎপাদন ও বাজারজাত করণের কাজ সুনামের সহিত করে আসছে। এবার নতুন করে ব্রি-বঙ্গবন্ধু ১০০ জাতের ধানের ভিত্তি বীজ উৎপাদনের জন্য দ্ইু একর জমিতে প্রদর্শনী প্লটে ধান আবাদ করা হয়েছে। আশাতিত ফলন হওয়ায় স্থানীয় কৃষক পর্যায়ে এটি বেশ সাড়া সৃষ্টি করেছে বলে তিনি জানান। উপজেলা কৃষি অফিসার ঋতুরাজ সরকার বলেন, ব্রি-১০০ জাতটি প্রথমবারের মতো অনেকেই আবাদ করেছেন। এটির ফলন বেশ বেশি । রোগ বালাইয়ের আক্রমন তথা ব্লাষ্টের আক্রমনমুক্ত। জিংক সমৃদ্ধ। যেটি জিংকের চাহিদা পূরণ করে শিশুদের বৃদ্ধি জনিত সমস্যায় খুবই কার্যকরী। তাছাড়া গর্ভবতী মায়েদের জিংকের চাহিদা পূরণে এই ধানের ভাত বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। ব্রি-১০০ জাত থেকে বীজ প্রত্যয়ন বিভাগের অনুমোদন নিয়ে ভিত্তি বীজ উৎপাদন করা যাবে। ব্লাষ্টের আক্রমনে ব্রি-২৮, ব্রি-৬৩ সহ কয়েকটি জাতের ধান আবাদ করে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উচ্চ ফলনশীল ব্লাষ্ট মুক্ত ব্রি-১০০ জাতের ধান চাষে কৃষকরা আগ্রহী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ