শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মহেশপুরে চেয়ারম্যানের নির্দেশে  বাড়ী ভাংচুর

আরো খবর

মহেশপুর প্রতিনিধি:ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামিরুল হকের নির্দেশ ও উপস্থিতিতে আইনি নোটিশ ছাড়াই আবু বক্কর নামে এক অসুস্থ ব্যক্তির বসত বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে শ্যামকুড় পূর্বপাড়ার ওই বাড়িতে চেয়ারম্যান নিজ বাহিনী নিয়ে ভাংচুর চালায়। এঘটনায় বাঁধা দিতে গেলে আবু বক্করের পরিবারের লোকজনকে পিটিয়ে জখমও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেনে অসহায় পরিবারটি।
গত বুধবার সকালে মাটি কেঁটে রাস্তার দুই ধারে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের ফিরোজ শেখের ছেলে ইউনুচ আলীকে পিটিয়ে জখম করেন চেয়ারম্যান জামিরুল হক। পরে আহত ইউনুচ আলীকে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আবু বক্করের মেয়ে তাসলিমা খাতুন জানান, দীর্ঘদিন যাবত সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে ৪ শতক জমিতে বসত বাড়ি করে আছেন তারা। সরকার নতুন ম্যাপে ওই জমি উপর দিয়ে রাস্তা দিয়েছেন। তবে সরকারের কাছে জমি ফেরত চেয়ে মামলা করেছেন তার মা নুরুন্নাহার বেগম।

মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে। চেয়ারম্যান জামিরুল হক পূর্ব শত্রুতায় গায়ের জোরে ওই জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে নিজ বাহিনী দিয়ে আমাদের বসত বাড়ীটি ভাংচুর করেছেন। এসময় বাঁধা দিতে গেলে চেয়ারম্যান জামিরুল তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে মারপিট করেন ও তার পরিবারের লোকজনকে পিটিয়ে জখম করেন।
আহত ইউনুচ আলী বলেন, আমার বাড়ির সামনে গর্ত খুড়ে মাটি নিয়ে রাস্তায় দিচ্ছিলেন চেয়ারম্যান। বাড়ির সামনে পানি জমবে বলে বাঁধা দিতে গেলে চেয়ারম্যান আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ ও মারপিট করে আহত করেন।
চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বলেন, সরকারি ম্যাপে ওই জমি উপর দিয়ে রাস্তা রয়েছে। আবু বক্করের পরিবারের লোকজন ডেকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বললে তারা তাতে রাজি না হলে ঘরটি ভেঙ্গে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে মারপিট করা হয়নি।
এদিকে ইউনুচ আলীকে মারপিটের প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান জামিরুল হক বলেন, লেবারের ধাক্কায় প্রাচীরের সাথে বাড়ি লেগে ইউনুচ আলী আহত হয়েছে।
মহেশপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ(ওসি)খন্দকার শামীম উদ্দিন জানান, বসত বাড়ি ভাংচুরের অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলার চেয়ারম্যান ময়জদ্দীন হামিদ লিখিত ভাবে জানিয়েছেন, বাড়ি ভাংচুরের বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান বা উপজেলা পরিষদ বিন্দুমাত্র অবগত নয়। তাছাড়া বাড়ি ভাংচুরের অনুমতি বা নির্দেশ দেওয়ার এক্তিয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান বা উপজেলা পরিষদের নেই।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ