কেশবপুর উপজেলা সংবাদদাতাঃ-কেশবপুরের সাবেক এমপি ও যুদ্ধা অপরাধী মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রায়বুনাল আদালতে মৃত্যু দন্ডপ্রাপ্ত মাওলানা সাক্ষাওয়াত হোসেন শনিবার রাতে ঢাকা হৃদরোগ ইন্সটিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন । তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। মৃত্যুর কালে তিনি স্ত্রী,৩ পুত্র ও এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মাওলানা সাক্ষাওয়াত হোসেন কেশবপুর উপজেলার হিজলডাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলীর একমাত্র পুত্র। ১৯৮০ সালে ঢাকা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে শিক্ষকতা দিয়ে তার চাকুরী জীনব শুরু এবং পরবর্তিতে ঢাকার এ জি অফিসে অডিড বিভাগে চাকুরীতে যোগদেন। ১৯৯০ সালে স্বেচ্ছায় চাকুরী হতে অবসরে যান। ১৯৯১ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ কেশবপুর আসন হতে জামায়াতের এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালে তিনি বিএনপিতে যোগদানের পর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত এমপি হয়েছিলেন এবং একই সালের ১২ জুন সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত এ এস এইচ কে সাদেক সাহেবের নিকট বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নৌকার প্রার্থীর নিকট ১৬৪ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন৷। এরপর তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেছিলেন এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
২০১৫ সালে মাওলানা সাক্ষাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবেতর বিরোধী অপরাধের যুদ্ধ অপরাধী মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রায়বুনালে তিনি ফাঁসির অপরাধে মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন।
শনিবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকার হৃদরোগ ইন্সটিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসাধীব অবস্থায় শনিবার রাত ৯ টা ১৫ মিনিটে মৃত্যু বরন করেন। ঢাকায় নামাজে জানাজার পর যশোরের কেশবপুর উপজেলায় (তার নিজ গ্রাম হিজলডাঙায়) সোমবার সকাল সাড়ে ৮ টায় হিজলডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাঠে নামাজে জানাজা শেষে মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজের পার্শে তাকে দাফন করা হয়েছে। জানাজা এবং দাফনে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়ে ছিলেন।#

