শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে এসছে ৭৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ 

আরো খবর

 বেনাপোল প্রতিনিধি:বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৭৫ মেট্রিক টন (৩ ট্রাক) পেঁয়াজ আমদানির হয়েছে।  সোমবার রাতে পন্যচালানটি বন্দরে প্রবেশ করেছে।
 স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্যান্য বন্দর যেমন হিলি, সোনা মসজিদ ও ভোমরা বন্দর দিয়ে যে পরিমাণ পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি হয়। তার চার ভাগের এক ভাগ পেঁয়াজ আমদানি হয় বেনাপোল দিয়ে।
সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আমদানিকারক জারিফ ইন্টারন্যাশনাল বন্ধের পর এই প্রথম বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৭৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করলেন। পেঁয়াজ বেনাপোল বন্দর থেকে ছাড়পত্রের জন্য কাজ করেন রয়েল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি সিএন্ডএফ এজেন্ট।
সিএন্ডএফ এজেন্টের স্বত্তাধিকারী রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের আমদানিকারকের ৭৫ মেট্রিক টন (৩ ট্রাক) পেঁয়াজ ভারতের পেট্রাপোল বন্দর থেকে বেনাপোলে পৌছেছে। এ পেঁয়াজের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে সার্টিফিকেট নেওয় হয়েছে। ভারত থেকে রাত সাড়ে সাতটায়  পেঁয়াজ প্রবেশ করে বেনাপোল বন্দরে। তারপর কাস্টমস ও বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ছাড় করে ঢাকায় পাঠানো হবে। তিনি আরো বলেন, আর কোন আমদানিকারকের পেঁয়াজ ওপারের বন্দরে নেই। তবে দুই একদিন গেলে কিছু পেঁয়াজ বেনাপোল দিয়ে বেনাপোলে প্রবেশ করবে। অনেকে ঢাকা কৃষি মন্ত্রনালয়ের খামারবাড়িতে ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) এর জন্য আবেদন করেছেন। অনুমতি পেলে ব্যাংকে এলসি খুলবেন। তারপর পেঁয়াজ আসবে।   এখন পেঁয়াজ আমদানি করতে কোনো বাধা নেই।
সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, পেঁয়াজের বাজার ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছিল। ৩০ টাকার পেঁয়াজ ভোক্তাদের কিনতে হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে। পেঁয়াজ আমদানি না করা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা নেই বলে সাধারন ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা দাবি জানানোর পর পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আমদানির অনুমতি (আইপি) প্রদানের ব্যবস্থা নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ সোমবার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি প্রদান করে কৃষি মন্ত্রনালয়। চাষিদের উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ১৬ মার্চ থেকে পেঁয়াজ আমদানি নিষিদ্ধ করে সরকার। সরকার ইমপোর্ট পারমিট বন্ধ করে দেয়। সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছিল চাষীসহ ব্যবসায়ীরা। কিন্থু এক শ্রেণী ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লোভে নানা অজুহাতে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করতে থাকে। হঠাৎ করে দাম বৃদ্ধির কারনে বিপাকে পড়েন নিম্ন আয়ের মানুষগুলো।
বাংলাদেশ ভারত চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান গত ১৫ মার্চ থেকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির ইমপোর্ট পারমিট বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ সরকার। যার কারনে এতদিন পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। সামনে কোরবানি ঈদ। এই দিনে পেঁয়াজের প্রয়োজন বেশি হয়। সরকার অনুমতি দেওয়ায় এখন পেঁয়াজ আমদানি হবে এবং দাম অনেকটাই কমে আসবে। অবশেষে ৮০দিনপর আসলো ভারতীয় পেয়াজের চালান।
বেনাপোল বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার সরকার জানান, পেঁয়াজ আমদানির নির্দেশনা এসেছে। আইপি দেখালে  উদ্ভিদ সংগনিরোধ সার্টিফিকেট ইস্যু করবো। ইতোমধ্যে রয়েল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি সিএন্ডএফ এজেন্ট তাদের আমদানিকারকের পক্ষে ৭৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে আবেদন করেছেন। পেঁয়াজ আমদানি করতে আর কোন বাধা থাকছে না বলে জানান তিনি
বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আব্দুল জলিল জানান, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বেনাপোল দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। কৃষি মন্ত্রনালয় আজ সোমবার থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা যাতে বন্দর থেকে দ্রুত পেঁয়াজ খালাস নিতে পারেন সে ব্যবস্থা বন্দর কর্তৃপক্ষ করবেন বলে তিনি জানান।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ