সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার আমতলা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শিল্প ও বানিজ্য মেলার নামে চলছে অবৈধ লটারী বিক্রি। মাসব্যপী শিল্প ও বাজ্যি শুরুর দিন থেকেই অনুমোদনহীন লটারীর ব্যবসা শুরু করে আয়োজক কমিটি সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ।প্রায় প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ফেরি করে লটারীর টিকেট বিক্রি করছে ২-৩ শত ইজিবাইক। ইজিবাইক গুলো সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন থানায় সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত লোভনীয় অফার দিয়ে বিক্রি করছে লটারীর টিকিট। এসব লটারী কিনে প্রতারিত হচ্ছে হাজারো মানুষ। গত ৮জুন বৃস্পতিবার সাতক্ষীরায় সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাস ব্যাপি এই শিল্প ও বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন হয়।
শিল্প ও বাণিজ্য মেলার স্মারকে মাস ব্যাপিশিল্প ও বাণিজ্য মেলার অনুমোদনে লটারী জুয়া নিষিদ্ধ। এই অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে যশোরের সৈকত হোসেন পরিচালনায় চলছে অবৈধ লটারীর রমরমা গরীবের রক্তচোষা? ব্যাবসা । ৯জুন শুক্রবার থেকে শুরু হয় অবৈধ লটারীর টিকিট বিক্রি।বানিজ্য মেলার তথ্যা কথিত প্রবেশে অযুহাত দেখিয়ে লটারীর টিকিট বিক্রয়ের জন্য প্রতিদিন সকাল থেকে ইজিবাই গুলো সাতক্ষীরার জেলার আশাশুনি, কালিগজ্ঞ, শ্যামনগর, দেবহাটা, পাটকেলঘাটা, কলারোয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ লটারীর লোভনীয় প্রাইজের মায়িকিং করে চলছে। এতে জেলা জুড়ে অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া মেলার মূল স্পটে রয়েছে অবৈধ লটারীর টিকিট বিক্রির হিড়িক।যার কারণে ইতিমধ্যে সর্বশান্ত হতে শুরু হয়েছেন সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০ টাকা মূল্যের এই লটারীতে দেওয়া হচ্ছে মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, মোবাইল, টিভি ,ফ্রিজ সহ নানা পুরস্কারের লোভনীয় অফার । এসব লটারীর মূল ক্রেতা রিকশা-ভ্যানচালক, চা দোকানদার, মুদি দোকানদার, দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ।পুরস্কারের আশায় প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার লটারী টিকিট ক্রয় করে প্রতারিত হচ্ছেন তারা। এ ছাড়া লটারির ড্র হয় গভীর রাত পর্যন্ত ।
আমতলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস, রহিম মোড়ল, ডলি বেগম সহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, মাস ব্যাপী এই মেলার কারনে যেমন ছেলে মেয়েদের লেখপড়ার ক্ষতি তেমনই এলাকায় বিভিন্ন মানুষের আনাগোনার ফলে এলাকায় চুরির তৎপরতা বেড়ে চলেছে। এছাড়া লটারীর কারনে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাজারো খেটে খাওয়া মানুষ। এরই মধ্যে অনেকের পরিবারে অশান্তি দেখা দিয়েছে।
এবিষয়ে লটারীর পরিচালক সৈকত হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি লটারি চালাচ্ছি সত্য তবে এ বিষয়ে চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ ভাল বলতে পারবে। আপনারা তার সাথে যোগাযোগ করুন। বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজর সভাপতি নাছিম ফারুক খান মিঠুর কাছে জানার জন্য বারবার ফোন তিনি মুঠো ফোনটি কেটে দেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ন কবির জানান, লটারির বিষয়ে তার কোন কিছু জানান নেই। তবে মেলার নামে যদি কোন অবৈধ লটারী চলে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

