শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

পাইকগাছার ভুবন মোহনী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অভিযোগ

আরো খবর

পাইকগাছা (খুলনা) থেকে আলাউদ্দীন রাজা।। পাইকগাছায় রাড়ুলী ভূবন মোহনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে এবার কমিটির সদস্যরা শিক্ষামন্ত্রীসহ  বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।
সোমবার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য বিমল কুমার পাল  ও অভিভাবক সদস্য সুব্রত বিশ্বাস,নিতাই দেবনাথ,জালাল জোয়াদ্দার ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য অলোকা দাশ লিখিত ভাবে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব,খুলনা জেলা প্রশাসক,যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রধান শিক্ষকের নানাবিধ অনিয়ম-দুর্নীতি  তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার ঘোষ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান প্রদত্ত ২২-২৩ অর্থ বছরে দু’বারে  স্কুলের পক্ষে-২৫ হাজার টাকা গ্রহন করলেও বিদ্যালয়ে তার কোন হিসাব নেই। চলতি বছরের সেশন ফিস ও পূরাতন বই বিক্রয়ের ২০ হাজার টাকা ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সংক্রান্ত আয়-ব্যয় ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আরশাদ আলী বিশ্বাস স্বাক্ষরিত ৩টি চেক বইয়ের ২৫ হাজার টাকা ও ৩০টি বিল ভাউসারে স্বাক্ষর করে নিলেও এ পর্যন্ত তার কোন রেজুলেশন করেননি।
ম্যানেজিং কমিটির অভিযোগ ৫ মে বিদ্যালয় চলাকালে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আরশাদ আলীসহ সদস্যরা প্রধান শিক্ষকের অফিসে প্রবেশ করে স্কুলের এ যাবত বিভিন্ন হিসাব-নিকাশের রেজুলেশন খাতা ও নোটিশ বই দেখাতে বললে প্রধান শিক্ষক তা দেখাতে অস্বীকার করেন। তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনার এক পর্যায়ে শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে বলেন,স্যার রেজুলেশন খাতা দেখাতে অসুবিধা কোথায়? এ সময় প্রধান শিক্ষক রেজুলেশন খাতা আমার বাড়িতে আছে  বললে, সভাপতি আরশাদ আলী তাকে উদেশ্য করে বলেন আপনি প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসার অযোগ্য ব্যক্তি।
কিন্তু৷ পরবর্তীতে  এ ঘটনা কে পুজি করে তিলকে তাল বানিয়ে প্রধান শিক্ষক কমিটি সদস্যদের বখাটে যুবক উল্লেখ করে ম্যানেজিং কমিটির ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করে  বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। যা মিডিয়াতে প্রকাশ হয়েছে। এমনকি এ ঘটনা এখন ভিন্ন রাজনীতি করন  করে জনমনে ও প্রশাসনে বিভ্রান্তি সৃষ্টিসহ ধর্মীয় ইস্যু তৈরী করে ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে। তাই কমিটি সদস্যরা গৌতম কুমার ঘোষের অনিয়ম-দু্র্নীতি ও ষড়যন্ত্র বন্ধে  দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার ঘোষের ব্যবহৃত মোবাইল ০১৭২৭-০৪৪৭১৭ নম্বরে ফোন দিলে তার স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা দীপালী ঘোষ ফোন  রিসিভ করে বলেন,ওনি একটু বাহিরে আছে।সে কারনে তার  মতামত গ্রহন করা সম্ভব হয়নি।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ইউএনও অফিসের সি,এ হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন ,প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের আনিত অভিযোগটি সংরক্ষণ করা হয়েছে যা স্যার আসলে ব্যবস্থা নিবেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ