নিজস্ব প্রতিবেদক:কেশবপুরের হদ গ্রামের আবু সাইদকে দুবাই পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ না পাওয়ায় একজনের অব্যহতির আবেদন করা হয়েছে চার্জশিটে। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ তরিকুল ইসলাম।
অভিযুক্ত আসামিরা হলো, কেশবপুরের পাঁচ বাকাবর্শি গ্রামের জব্বার সরদারের ছেলে কামরুল, দুবাই বিল্ডিং ক্লিনিং সার্ভিসেস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোশারফ হোসেন, কুমিল্লার হোমনা থানার শ্রীমদ্দি গ্রামের মৃত আব্দুল গণি মিয়ার ছেলে আব্দুল মতিন ওরফে মতিউর রহমান।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, আসামি কামরুল ইসলাম পাশের গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে আবু সাইদের পরিচিত। সাইদকে দুবাই শহরের হোটেলে ৩০ হাজার টাকা বেতনে চাকরির প্রস্তাব দেয় কামরুল। এরপর কামরুল তার কাছ থেকে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করে অপরআসামিদের সহযোগীতায় তাকে দ্রুত দুবাই পাঠিয়ে দিবে বলে জানায়। ২০২২ সালের ২ অক্টোরব আসামি করামরুল দুবাই পাঠানোর উদ্দ্যেশে সাইদকে বাড়ি থেকে ঢাকায় আসামিদের অফিসে নিয়ে যায়। বিমানবন্দর থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে করোনা টেষ্ট করিয়ে ইউএস বাংলায় দুবাই পাঠিয়ে দেন সাইদকে। দুবাই বিমানবন্দর থেকে আসামি মোশারফ তাকে রিসিভ করে তার অফিসে নিয়ে যায়। মোশারফ তার অফিসে নিয়ে সাইদের কাছে থাকা ২৭ হাজার টাকা, পাসপোর্টসহ যাবতীয় কাগজপত্র কেড়ে নেয়। এরপর অপরিচিত এক বাড়িতে নিয়ে সাইদকে আটকে রেখে মারপিট করে বাড়িতে ফোন করে ৩ লাখ টাকা এনে দিতে বলে। নিরুপায় হয়ে সাইদ বাড়িতে ফোন দিলে আসামি মতিউর রহমানের বিকাশ নম্বরে ৫০ হাজার টাকা দেয় সাইদের ভাই। এছাড়াও আসামি কামরুলকে দেয়া হয় আরও ৫০ হাজার টাকা। ১২ অক্টোবর আসামিরা সাইদকে দেশে পাঠিয়ে দেয়। বিষয়টি সাইদ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়ে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ তা গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালতের আদেশে অভিযোগটি কেশবপুর থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়। এ মাশলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাক্ষীদের বক্তব্য ও দুবাই যাওয়া আসার কাগজপত্র পরীক্ষা করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ওই তিনজনকে অভিযুক্ত আদালতে এ চার্জশিট দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ না পাওয়ায় এইচপি অভারসিস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রবীর বনিকের অব্যহতরি আবেদন করা হয়েছে। চার্জশিটে অভিযুক্ত সকল আসামিকে পলাতক দেখানো হয়েছে।
কেশবপুরের আবু সাইদকে দুবাই পাচার, তিনজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

