জি.এম.বাবু. রাজগঞ্জ (যশোর): আষাঢ় মাসের প্রথম সপ্তাহ অতিক্রম করেছে। তবুও যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জসহ পশ্চিমাঞ্চলের খাল-বিল ও পুকুরে বৃষ্টির পানির দেখা নেই। জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবের কারণে বৃহত্তর মনিরামপুর উপজেলায় এ অবস্থা হয়েছে। এতে বেশি হুমকির মুখে পড়েছে কৃষিসহ এ জনপদের দেশি প্রজাতির নানান মাছসহ জীববৈচিত্র্য। দেশের বৃহত্তর উপজেলা মনিরামপুর। এই উপজেলায় নাম-না জানা অসংখ্য নদ-নদী, বাওড় এবং খাল বিল রয়েছে।
ইতিমধ্যে আষাঢ় মাসের প্রথম সপ্তাহ অতিক্রম করেছে। কিন্তুু বৃহত্তর এ উপজেলার রাজগঞ্জসহ পশ্চিমাঞ্চলের রোহিতা, খেদাপাড়া, হরিহরনগর, ঝাঁপা, মশ্মিমনগর ও চালুয়াহাটি ইউনিয়নের নদ-নদী বাওড় ও খাল-বিলের কোথাও বৃষ্টির পানির দেখা নেই। ফলে এ এলাকার অনেক খাল বিল ও পুকুর এখন পানি শূণ্য। আর পানি না থাকায় শুকনো মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছে গবাদিপশু। সেই সাথে খাল বিলে পানি না থাকায় যৌবন হারিয়ে এখন পানি শূন্যতায় মরতে বসেছে এ অঞ্চলের অসংখ্য খাল-বিল ও পুকুর।
স্থানীয়রা সচেতন মহল বলছেন, জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবের কারণে খাল-বিল ও বাওড়ের এমন পরিণতি। এখন বর্ষা মৌসুম অথচ বৃহত্তর এ উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নের কোন খাল-বিল বা পুকুরে পানি নেই। এতে বিলাঞ্চলে দেশি প্রজাতির মাছের বংশ বিস্তার, শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া, শাপলা ফুলসহ জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। আগের মত এখন আর বিলের পানিতে জলন্ত উদ্ভিদের দেখা পাওয়া যায়না। উপজেলার ৬টি বিল, ১০হাজার ৪৬৭টি পুকুর ও ৬টি বাওড় থেকে হারিয়ে গেছে অনেক দেশি প্রজাতির মাছ।
রাজগঞ্জ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার মাঠঘাট ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোন পানি নেই। বিল বা ছোট বড় অসংখ্য পুকুর পানির অভারে খা-খা করছে। একরের পর একর কৃষিজমি ফেঁটে চৌচির। কৃষকেরা বলছেন, আষাঢ় মাসে এ এলাকার চারিদিকে কৃষি জমিতে বৃষ্টির পানি থই থই করতো। কিন্তুু আজ আষাড় মাসের ৮দিন অথচ বৃষ্টির কোন দেখা নেই। রাজগঞ্জ কলেজপাড়া গ্রামের কৃষক মেহেদি হাসান জানান, এসময় তারা খাল-বিলে জাল দিয়ে দেশীয় প্রজাতির নানা ধরণের ধরতেন। কিন্তুু এখনও পর্যন্ত কোথাও কোন পানির দেখা নেই। তাইতো মাছও নেই। এখন স্থানীয় গৃহস্থরা মাঠঘাটে গরু ছাগল চরাচ্ছে।
চালুয়াহাটি ইউনিয়নের রামনাথপুর গ্রামের কৃষক সাবেক ইউপি সদস্য আবুল হোসেন গাজী জানান, তীব্র তাপদহের পর আকাশ থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় পানির মারাত্মক সংকটের কারণে ক্ষেতের জমি ফেঁটে চৌচির। এমতাবস্থায় পানি কিনে রোপা আমন চাষ করা তাদের মত কৃষকের পক্ষে সম্ভব নয়। এখন রোপা আমনের ভরা মৌসুম হলেও জমিতে পানি না থাকায় ধানের পাতা ফেলানো ও জমি প্রস্তুুত করা নিয়ে মহা বিপাদে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।
এছাড়া তীব্র তাপদাহের কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে শতশত হেক্টর জমির পাট। গত কয়েক বছর এ উপজেলার চাষিরা পাটের বাম্পার ফলন ও লাভের মুখ দেখলেও চলতি মৌসুমে মারাত্মক লোকসানের আশংকা করছেন চাষিরা। প্রকৃতির এ খামখেয়ালিতে চিরচেনা বর্ষাকাল যেন এখন শুধুই কাগজেই সীমাবদ্ধ।
আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহ পার,বৃস্টির দেখা নেই,চিরচেনা বর্ষাকাল যেন শুধুই কাগজেই সীমাবদ্ধ

