শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে পুত্রবধূকে হত্যা!

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরের চৌগাছায় ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ইসমত আরা (২৮) নামে দুই সন্তানের জননী পুত্রবধূকে শ^াসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নিজের শ^শুর আনিছুর রহমানের (৬০) বিরুদ্ধে। নিহত ইসমত আরা চৌগাছা পৌরসভার ৫নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বসপাড়া গ্রামের মশিয়ার রহমানের মেয়ে এবং উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদহ গ্রামের মজনুর রহমানের স্ত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সেলিম রেজার মামলায় নিহতের শুরুর, শ্বাশুড়ি ও স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি স্বীকারও করেছে পাষন্ড শ^শুর। তবে নিহতের ভাবী ঝর্ণা বেগমের দাবি, শ^শুর আনিছুর রহমান জোরপূর্বক ইসমত আরাকে ধর্ষণের পর শ^াসরোধে হত্যা করেছেন। শনিবার বিকেল চারটার দিকে এ বিষয়ে চৌগাছা থানায় হত্যা ও নারী নির্যাতন মামলা নথিভূক্ত হয়।
এরআগে শুক্রবার (৩০জুন) গভীর রাতে নিহতের শ্বশুর বাড়ি উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদহ গ্রামের শ^শুর বাড়ি থেকে ইসমত আরার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ এবং নিহতের শ^শুর আনিছুর রহমান, স্বামী মজনুর রহমান ও শ^াশুড়ি হালিমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে মজনুর সাথে ইসমত আরার বিয়ে হয়। তার রাব্বী (৫) ও সাব্বির (২) নামে দুটি ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই আসামীরা তাকে শারিরিক ও মানষিক নির্যাতন করতো। নিহতের শ^শুর প্রায়ই ইসমত আরাকে কু-প্রস্তাব দিতো এবং বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তার হাত ধরে টানা হেচড়া, জাপটে ধরে যৌন নিপিড়নের চেষ্টা করে। ইসমত আরা এ বিষয়ে তার ভাই ও বাবাদের কাছে জানালে তার ভাই সেলিম রেজা ও পরিবারের লোকজন বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে নিহতের স্বামী, শ্বাশুড়িসহ কারও কাছ থেকে কোন সহযোগিতা পাননি। উল্টো তারা ইসমত আরাকে দোষারোপ করতে থাকে। ৩০ জুন বিকাল ৫টার দিকে শ^শুর আনিছুর রহমান ইসমত আরার স্বামীর বসত ঘরের পাশে তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। বিষয়টি সে প্রতিবাদ করলে সকল আসামী পরস্পর যোগসাজসে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শারিরিক নির্যাতন করে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

পরে আসামীরা তথ্য গোপন করে লোকজনের কাছে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে প্রচার করে। সংবাদ পেয়ে নিহতের ভাই সেলিম রেজা তার স্ত্রী হ্যাপি বেগম ও পরিবারের লোকজন তাদের বাড়িতে পৌছে ইসমত আরাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। এসময় তার মুখে রক্তাক্ত ফেনা এবং শরিরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন, যৌনাঙ্গে রক্ত ও বীর্য দেখতে পান তারা। পরে চৌগাছা থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যেয়ে মরদেহ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্য জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
তবে নিহতের ভাবী ঝর্ণা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আমার ননদকে ধর্ষণের পর তার শ্বশুর আনিছুর রহমান শ^াসরোধে হত্যা করেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে সুরতহালের সময় আমি আমার ননদ ইসমত আরার কাপড়-চোপড় খুলে যা দেখেছি তাতে সে ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে। তার কাপড়-চোপড়ে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যাবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চৌগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জেল্লাল হোসেন বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শ^াসরোধে হত্যার বিষয়টি বোঝা গেছে। নিহতের শ^শুর স্বীকারও করেছেন। তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত রিপোর্টের আগে বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এ বিষয়ে নিহতের ভাই সেলিম রেজার মামলায় এজহারভূক্ত তিন আসামি নিহতের শবশুর, শ্বাশুড়ি ও স্বামীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ