রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

কেশবপুরের হাতুড়ি বাহিনীর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে ক্ষতিগ্রস্তরা,বেরিয়ে আসছে নানা কাহিনী

আরো খবর

কেশবপুর প্রতিনিধি: কেশবপুরের হাতুড়ি বাহিনীর বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসছে সন্ত্রাস নৈরাজ্য ও হামলা মামলার তথ্য। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় মুখ খুলতে শুরু করেছে ক্ষতিগ্রস্তরা। তাদের কুকীর্তির বর্ণনা দিতে গিয়ে মাহমুদুল হাসান বলেন, হাতুড়ি বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনের গোটা এলাকার মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার অপকর্ম তুলে ধরে খবর প্রকাশ হলেও কার্যত কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি ।

সর্বশেষ তাদের পরিবারের উপর যে জুলুম করা হয়েছে তা হচ্ছে গাছের পাকা আম পাড়তে না দেয়া। তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির উপর বাপের লাগানো গাছে আম পাড়তে গেলে হাতুড়ি বাহিনী গিয়ে বন্ধ করে দেয় এবং প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসে। শেষ পর্যন্ত তারা পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আম পাড়তে সক্ষম হয়েছে।

এর আগে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে ৫ লাখ টাকা আত্মসাত করে বাহিনী প্রধান ফারুক হোসেন জাকারিয়া ও তার দলবল। নাটক সাজিয়ে তারা ওই টাকা বাগিয়ে নেয়।

এব্যাপরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন মাহমুদুল হাসান। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই)’র ওপর তদন্ত ভার ন্যাস্ত করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, ফারুক হোসেন জাকারিয়া, তার চাচাত ভাই আজিজুর রহমান ও সালা উদ্দিন।

মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, বহু অপকর্মের মূল হোতা ফারুক হোসেন জাকারিয়া এবং সালাউদ্দিন গত ২০২০ সালের ২৭ ফ্রেব্রয়ারী তার বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি পঙ্গু হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়ের চাকরি দেওয়ার কথা বলে পাঁচ লাখ টাকা গ্রহণ করে।

১নং আসামি ফারুক হোসেন জাকারিয়া তার প্রতিবেশী হওয়ায় সরল বিশ্বাসে সরকারি চাকরির পাওয়ার আশায় সহায় সম্বল বিক্রি টাকা প্রদান করি। এরপর ২০২০ সালের ১ মার্চ তারা বিমানযোগে আমাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। পরে তারা একটি লিমিটেড কোম্পানির ভুয়া নিয়োগ পত্র আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে তারা ঢাকা থেকে সটকে পড়ে।

তিনি আরো জানান, পরদিন উক্ত নিয়োগ পত্র নিয়ে আমি সরকারি পঙ্গু হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি নিয়োগ পত্রটি ভুয়া। এরপর বাড়িতে ফিরে আসামি ফারুক হোসেন জাকারিয়াকে ভুয়া নিয়োগ পত্র দিয়ে প্রতারণা করার কথা অবহিত করলে তিনি টাকা ফেরত দিবে বলে আশ্বস্থ করে সময় নেন। গত দুই বছর ধরে টাকা ফেরত না দিয়ে তালবাহানা করছেন। যখনি তার কাছে টাকা চাওয়া হয় তখনি হুমকি ধামকি দেন।নিরুপায় হয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন। এই মামলা দায়েরর পর তার উপর হামলা করে হাতুড়ি বাহিনী। বর্তমানে তিনি তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তহীনতায় ভুগছেন।

ফারুক হোসেন জাকারিয়া এর আগে স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিং করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানব বন্ধন করে তার বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতি সামাল দেয়ার কিছুদিন পর তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাকে বিদ্যালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।গতবছর তার বিরুদ্ধে সনাতন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে।

ওই সময় ১০ নং সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সামছুন্নাহার লিলি জানিয়েছিলেন, ফারুক হোসেন জাকারিয়ার গত রমজান মাস শুরু হওয়ার পূর্বে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সনাতন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে কথা বলে।

বিষয়টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারকে জানালে তিনি ফারুক হোসেন জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেন। তবে ওই নিদের্শনা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ