শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মোরেলগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট: আয়োজকদের ত্রুটি নিয়ে সামালোচনার ঝড়

আরো খবর

 মোরেলগঞ্জ ( বাগেরহাট)থেকে মোঃ এখলাস শেখ: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে  ঢিলে ঢালাভাবে চলছে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট জাতীয় গোল্ডকাপ ২০২৩ এর খেলা। মোরেলগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক  উদ্বোধন ছাড়াই খেলা শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৩জুলাই) সকালে থেকে মোরেলগঞ্জ পৌরসভা সহ ১৬টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা বিভিন্ন ইউনিয়ন কেন্দ্রগুলোতে কোন প্রকার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই শুরু হলো এই জনপ্রিয় ফুটবল প্রতিযোগিতা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন  বিভিন্ন মহল।
এ টুর্নামেন্ট দেশে ফুটবলের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিক দেশের মেয়েরা ফুটবল খেলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি সুস্থ দেহে সুন্দর মন
 অর্জন এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখার জন্য এই সরকারের এই মহতি উদ্যোগ।
আর সরকারের এ উদ্যোগকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিলেন না মোরেলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।
 নিজ ইচ্ছাকে বাস্তবায়ন করা, খামখেয়ালিপনা, সরকারি নিয়মের কোন তোয়াক্কা না করার কারণে এমনটি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন  সচেতন শিক্ষক-অভিভাবকবৃন্দ।
ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে খেলাটি পরিচালনার কথা থাকলেও সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজ ইচ্ছাকে  বাস্তবায়ন করলেন তিনি।
গত দুই দিন মূল ভেনু অম্বিকা চরণ লাহা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়  মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, ওই খেলা কমিটির আহবায়ক উপজেলা  শিক্ষা কর্মকর্তা  মোস্তাফিজুর রহমান নিজেই কোন প্রকার কারণ ছাড়াই অনুপস্থিত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি ছুটিতে আছেন। ছুটির ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তাকে কোন ছুটি দেইনি। এমন কি তিনি ছুটি চাননি। কমিটের ২০ জন সদস্যের মধ্যে অনেকেই অনুপস্থিত ছিলেন।
 কোন প্রকার সাজ-সজ্জ্বা নেই, কোন উৎসাহ উদ্দীপনা নেই, নেই প্রাণ চাঞ্চল্য।  দায়সারাভাবে চলছে  বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট। কথা হয় উপজেলার একাধিক শিক্ষকবৃন্দের সাথে ক্ষোভের সাথে বলেন, নিজেদের পকেটের টাকা এবং আবার অনেকে চেয়ারম্যানদের কাছে ধর্না ধরে কিছু টাকা নিয়ে কষ্ট করে খেলা তুলছি। কিন্তু শিক্ষা অফিসার আমাদের সাথে অন্যায় করেছে। কথা বললেই শোকজ, বেতন বন্ধ, চাকুরী হারানোর ভয় ইত্যাদি মাথায় নিয়ে চলছি।
 ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারিভাবে ৫ হাজার টাকা বরাদ্ধ থাকলেও আমাদের হাতে ৩ হাজার টাকা তুলে দেন। উপজেলা পর্যায়ে ৮ হাজার টাকা থাকলেও ৬ হাজার টাকা তুলে দেন।
এ ব্যাপারে চলতি দায়িত্বে নিয়োজিত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে সরকারি বরাদ্ধের টাকা থেকে কম দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখন এটা দিয়েছি বাকিটা পরে দেব।”
 এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মোঃ শাহ-ই-আলম বাচ্চু ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ক্ষোভের সহিত জানান, “আমি উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি, বঙ্গবন্ধু  ও  বঙ্গমাতা খেলা সম্পর্কে শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান এযাবৎ আমাকে কিছুই জানাননি। পাশাপশি মোরেলগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকদের ভাইদেরকেও এ ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি। “
 খেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম তারেক সুলতান জানান, “আমি ট্রেনিং শেষে করে বিদেশ থেকে আসা মাত্র আমাকে ৩১ জুলাই এমপি মহোদয় থাকতে পারবেন, সে অনুসারে ফাইনাল খেলার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া এ খেলা সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা।”
এ ব্যাপারে জেলার শিক্ষা কর্মকর্তা   মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, এরকম কর্মকাণ্ড আদৌ কারো কাম্য নয়। এত বড় মোরেলগঞ্জ উপজেলায় একজন সৎ এবং কর্মঠ  শিক্ষা অফিসারের প্রয়োজন। এমন লোক দিয়ে  এত বড় উপজেলা চালানো যায় না। তার ব্যাপারে আমার কাছে প্রতিদিন বিস্তর অভিযোগ আসে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ