অভয়নগর প্রতিনিধি:যশোরের অভয়নগরে পারিবারিক কলহের জেরে আজমীরা বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত (২৮শে জুলাই) শুক্রবার রাতে উপজেলা র দক্ষিন দেয়াপাড়া গ্রামে। পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, দশ বছর আগে দেয়াপাড়া গ্রামের জব্বার মোড়লের ছেলে জাহিদুল মোড়লের সাথে বিয়ে হয় রাজঘাট গ্রামের শামছুর রহমানের মেয়ে আজমিরার।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকে নানা বিষয় নিয়ে প্রায় সময় সংসারে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। তারই ধারাবাহিকতায় স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুর ১৬ দিন আগে বাপের বাড়ি চলে যায় আজমিরা বেগম। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বোন জামাইদের প্রচেষ্টায় গত শুক্রবার বিকালে শালিশী বৈঠক করে শশুরবাড়ি পাঠানো হয় আজমিরাকে। ঐ দিন রাতে আবারও স্বামীর সাথে ঝগড়া হলে ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে এক সন্তানের জননী আজমিরা বেগম। যদিও বিষয়টিকে নিছক আত্মহত্যা বলতে নারাজ নিহত আজমীরা বেগমের মা মেহেরুন্নেসা।
তিনি বলেন, আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে আমার জামায় হত্যা করেছে। সে বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবীতে আমার মেয়েকে নির্যাতন করতো। এমনকি মৃত্যুর সময় তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার গলায় কোন দাগ পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নিহত আজমিরার স্বামী জাহিদুল ইসলাম জানান, আমার শ্বশুর শাশুড়ির যে অভিযোগ তুলেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন। আমি আমার স্ত্রীর গায়ে কখনো হাত দেই নি বরং আমার স্ত্রী মাঝে মাঝে আমাকে আঘাত করেছে। জাহিদুলের মা মাফুরা বেগম বলেন, বউমা আমার ছেলের সাথে প্রায় সময় ঝগড়া করতো, ঐদিন রাতে ঘরের দরজা দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
আমার ছেলে ঘরের উপরের অংশে টিন দিয়ে ঘেরা ছিল সেই টিন ভেঙ্গে ঘরে গিয়ে দেখে সে মারা গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মিলন কুমার মন্ডল জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই আমাদের কাছে মনে হয়েছে। অধিকতর তদন্তের জন্য লাশ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে, রিপোর্ট আসলে আসল ঘটনা জানা যাবে।

