শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মোবাইলে প্রেম বিয়ে, ফুলশর্য্যার পর জানলেন কাবিননামা ভুয়া 

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি:মোবাইল ফোনে পরিচয়, প্রেমের সম্পর্ক, ভুয়া কাবিন নামায় সাক্ষর করে বিয়ে, অবৈধভাবে শারীরিক সম্পর্ক, এবং প্রতারণার মাধ্যমে সাড়ে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। যশোরের জয়তী সোসাইটি নামক এনজিও কর্মী নাসিমা খাতুন গত ১০ আগস্ট আশরাফুল ইসলাম কল্লোল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় এই মামলা করেছেন। আসামি আশরাফুল ইসলাম কল্লোল ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার খালিশপুর গ্রামের ওয়ালিউল ইসলামের ছেলে।
মামলায় বাদি নাসিমা খাতুন যশোর শহরতলীর নুরপুর গ্রামের নজির হোসেনের মেয়ে।
বাদী মামলায় উল্লেখ করেছেন, তিনি এনজিও সংস্থা জয়তী সোসাইটিতে কাজ করেন। ২০১৮ সালে আসামি কল্লোলের সাথে তার পরিচয় হয়। এরপর তাদের দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপরে নাসিমার কর্মসংস্থান যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া আদর্শ মহিলা উন্নয়ন সংগঠনে বসে ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি ১ লাখ, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি ২ লাখ, ১০ ডিসেম্বর ১ লাখসহ বিভিন্ন সময় মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ধার স্বরূপ গ্রহণ করে আশরাফুল ইসলাম কল্লোল। এরই মধ্যে কল্লোল নাসিমা খাতুনকে বিয়ে করবে বলে বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখাতে থাকে। এরপরে ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি একজন ভুয়া কাজী ডেকে কাবিন নামায় সাক্ষর করে নাসিমাকে বিয়ে করে কল্লোল। তার পর থেকে নাসিমা এবং কল্লোল স্বামী-স্ত্রী হিসেবে শারীরিক সম্পর্ক করে। নাসিমা কিছুদিন পরে বাড়িতে নিয়ে সংসার করার কথা বলে কল্লোলকে। কিন্তু কল্লোল কোন ভাবেই নাসিমাকে বাড়িতে নিয়ে সংসার করতে রাজি হয়নি। বরং নাসিমাকে বিয়ের কথাই অস্বীকার করে কল্লোল। ফলে নাসিমা বাদী হয়ে কল্লোলের বিরুদ্ধে যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে যশোরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। মামলার কথা জানতে পেরে বিষয়টি মিমাংসার জন্য নাসিমাকে বলে কল্লোল। এক পর্যায় গত ৪ আগস্ট বিকেলে চাঁচড়া রায়পাড়ার সোনিয়া পারভীন ছন্দার বাড়িতে সালিশে বসে। এসময় নাসিমাকে মামলাটি প্রত্যাহারের কথা বলে এবং বিয়ের কথা অস্বীকার করে কল্লোল। এছাড়াও নাসিমার কাছ থেকে নেয়া ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকাও ফেরৎ দিবেনা বলে চলে যায়। এই ঘটনায় মামলা হলেও আসামি কল্লোলকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই মিহির মন্ডল জানিয়েছেন, আসামিকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ