মঙ্গলবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১লা শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

রাজগঞ্জে দু’টি ঐতিয্যবাহী প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য থাকলেও টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের

আরো খবর

 

 

জি.এম.বাবু. রাজগঞ্জ ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জে দু’টি ঐতিয্যবাহী প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য থাকলেও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষের। বাজারের সুনামধন্য দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে করে প্রতিষ্ঠান দু’টি পরিচালনা এবং সুনাম রক্ষায় হিমশিম খেতে হচ্ছে ভারপ্রাপ্ত প্রধানদের। তবে নানা প্রকিুলতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠান দু’টি অতিতের গৌরব ধরে রাখতে নিয়েছে বেশ কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। এদিকে প্রজন্ম একাত্তরে রিপোর্ট প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রতিষ্টান কতৃপক্ষ। অনেকের আশা এবার হয়তো ভারমুক্ত হতে পারে প্রতিষ্ঠান দু’টি।
সূত্রমতে, উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে একেএম ইউনুস আলম যোগদান করেন ২০০৪ সালের ১২ আগষ্ট। তিনি দায়িত্বপালন অবস্থায় ২০০৯ সালে ৬ ডিসেম্বর নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ আত্মসাতের দায়ে প্রথম বহিস্কৃত হন। ২০০৯ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১০সালের ১৯ মে পর্যন্ত সহকারি শিক্ষক নওশের আলম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে একেএম ইউনুস আলম ২০১০ সালের ২০ মে আবারও ফিরে পান প্রধান শিক্ষকের পদ।
এরপর টানা ৭বছর দায়িত্ব পালন করার পর ২০১৭ সালের ১৩ আগষ্ট তিনি দ্বিতীয়বারের মত বহিস্কার হন। ২০১৭ সালের ১৪ আগষ্ট থেকে আবারও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান সহকারি শিক্ষক নওশের আলম। তিনি ২০১৮ সালের ১৩ আগষ্ট পর্যন্ত প্রায় এক বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকা অবস্থায় ২০১৮ সালের ১৪ আগষ্ট থেকে ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই পর্যন্ত আবারও প্রধান শিক্ষকের পদ ফিরে পান একেএম ইউনুস আলম। সর্বশেষ তিনি ওই বছরের ১৮ জুলাই তৃতীয় দফা বহিস্কার হন। ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সহকারি শিক্ষক নওশের আলম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন ।
এরপর নওশের আলম অবসরে গেলে ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান রাজগঞ্জ অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বিশিষ্ট সমাজসেবক মাছুদ কামাল তুষার। তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে অত্র অঞ্চলের একমাত্র সুনামধন্য এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এখনও পর্যন্ত তার সুনাম ধরে রাখতে স্বক্ষম হয়েছে। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে ২৬জন মেধাবি ও অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকায় দিনদিন ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বনামধন্য এ বিদ্যালয়টিতে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত বর্তমানে ৮৮০জন ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছে। এরমধ্যে ভোকেশনাল শাখায় ২৬৬জন ও জেনারেল শাখায় ৬১৪জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাছুদ কামাল তুষারর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পাল্টাতে থাকে বিদ্যালয়ের সার্বিক চিত্র। বর্তমানে তারই নেতৃত্বে ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রয়েছে। এরমধ্যে একতলা ভবনের উপর তৃতীয় তলা নির্মাণ ও চতুর্থতলা নির্মাণাধিন। ত্রিশ লক্ষ টাকা ব্যায়ে বৃহত্তর এ বিদ্যালয়ের প্রাচীর নির্মাণ। ১৫লাখ টাকা খরচ করে বিশাল খেলার মাঠে মাটি ভরাট। ঝাঁপা বাওড়ের পাড়ে দুই কোটি টাকা ব্যায়ে পর্যাটন এলাকা গড়ে তোলার জন্য নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার একমাত্র রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কমপ্লেক্সে অত্যাধনিক শেখ রাসেল জিটিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ বিদ্যালয়ে সর্বপ্রয়াত গোলাম রসূল, সাবেক মৎস্য ও অবগারি মন্ত্রী শরৎচন্দ্র মজুমদার, পুলিন বিহারী ধর, কাজী আব্দুল সোবহানের মত দেশ বরণ্য ব্যক্তিবর্গ এই বিদ্যালয়ের শিক্ষাকতা করে গেছেন। পাশাপাশি প্রথিতযশা সাহিত্যিক আনিস সিদ্দিকি, এস.এম.মইনুল ইসলাম, কুঞ্জুবিহারী, কিরণ চন্দ্র বিশ্বাস ও শিক্ষাবীদ আলহাজ্ব রহমতুল্ল্যার প্রমুখ ব্যক্তিদের মত স্বনামধন্য ব্যক্তিরা এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করে গেছেন।
এই বিদ্যালয়ের বহু ছাত্র-ছাত্রী আজ দেশ বিদেশের দায়িত্বপূর্ণ কাজে কর্মরত আছেন। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে বিশাল খেলার মাঠসহ ৪০বিঘা নিজস্ব সম্পত্তি রয়েছে। এ বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাছুদ কামাল তুষার এলাকায় শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের দ্বারগোড়ায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিরালসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি এলাকার গরীব অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের তথ্য-প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও জ্ঞান বিজ্ঞানের দক্ষতা অর্জনের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা ও চালু করেছেন সুনামধন্য রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত এ প্রধান শিক্ষক।
একই অবস্থা রাজগঞ্জ শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যাপীঠ এ নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। এখানেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্বে রয়েছে। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়ম ও অর্থআত্মসাতের দায়ে চলতি বছরের ৫ জুলাই বহিস্কৃত হন। ৮জুলাই থেকে সহকারি শিক্ষক আকতারুজ্জামান শিবলি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। জাহাঙ্গীর আলম ২০০৪ সালে ১ জানুয়ারি অত্র বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর সাবেক প্রধান শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম অবসরে গেলে ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে জাহাঙ্গীর আলম যোগদান করেন। ১৯৭১সালে এ বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় । বর্তমানে এখানে ৪৬১জন ছাত্রী রয়েছে। এরমধ্যে ভোকেশনাল শাখায় ৭০জন ও জেনারেল শাখায় ৩৯১জন ছাত্রী রয়েছে।
ফলে রাজগঞ্জের স্বনামধন্য দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্তদের ভারে ভারাক্লান্ত এ দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক এবং বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করেন এলাকার অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীসহ সচেতন মহল।
এব্যাপারে কথা হয়, বিদ্যালয় দু’টির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও রাজগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফের সাথে তিনি জানান, তিনি প্রতিষ্ঠান দু’টির দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে প্রতি বছরই ছাত্র-ছাত্রীরা ভাল ফলাফল করছে। কারন হিসাবে তিনি আরো বলেন, অভিজ্ঞ শিক্ষকদ্বারা এ দু’টি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলেই প্রাইভেট বা কোচিংয়ের সার্বিক ব্যবস্থা থাকায় তাদের বাইরে কোথাও প্রাইভেট বা কোচিংয়ের প্রয়োজন হয়না। এই প্রদ্ধতি চালু করার পর থেকে কোমলমোতি শিক্ষার্থীরা প্রতি বছরই ভাল ফলাফল করছে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ