নিজস্ব প্রতিবেদক ও কেশবপুর প্রতিনিধি: কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া যশোরের ২৬ ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে যশোর সদর উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নে ১০ আওয়ামী লীগ এবং ৫ টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত ও কেশবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৪ টিতে আওয়ামী লীগ এবং ৬ টিতে বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। একটি ইউনিয়নে ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। বুধবার ভোটগ্রহণ শেষে রাতে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সদর উপজেলায় নির্বাচিতরা হলেন
হৈবতপুর ইউনিয়নে আবু সিদ্দিক (আ.লীগ), লেবুতলা ইউনিয়নে আলিমুজ্জামান মিলন ( আ.লীগ, বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী), ইছালীতে ফেরদৌসী ইয়াসমিন (আ.লীগ), নওয়াপাড়ায় হুমায়ুন কবীর তুহিন (আ.লীগ বিদ্রোহী), উপশহর ইউনিয়নে এহসানুর রহমান লিটু (আ.লীগ), কাশিমপুরে শরিফুল ইসলাম (আ.লীগ), চুড়ামনকাটিতে দাউদ হোসেন (আ.লীগ), দেয়াড়া ইউপিতে আনিসুর রহমান (আ.লীগ বিদ্রোহী), আরবপুর ইউনিয়নে মীর আরশাদ আলী রহমান (আ.লীগ), চাঁচড়া ইউপিতে শামীম রেজা (আ.লীগ বিদ্রোহী), রামনগর ইউপিতে মাহমুদুল হাসান লাইফ (আ.লীগের বিদ্রোহী), ফতেপুর ইউপিতে সোহরাব হোসেন (আ.লীগ), নরেন্দ্রপুর ইউপিতে রাজু আহমেদ ( আ.লীগ বিদ্রোহী), কচুয়া ইউপিতে লুৎফর রহমান ধাবক (আ.লীগ), বসুন্দিয়া ইউপিতে রিয়াজুল ইসলাম খান রাসেল ( আ.লীগ)। কেশবপুর উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের ভিতর বেসরকারি ফলাফলে নৌকা প্রতিকে বিজয়ী হয়েছেন ৪ জন, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী ৪ জন ও স্বতন্ত্র (বিএনপি) ২ জন বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বলে নির্বাচনে দায়িত্বরত উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা রিজিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কেশবপুর সদর ইউনিযনে ফলাফল জানা যায়নি। নির্বাচিতরা হলেন ত্রিমোহিনী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী আনিসুর রহমান (আনারস), সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নে কাজী মুস্তাফিজুল ইসলাম (চশমা),মজিদপুর ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত হুমায়ুন কবীর পলাশ(আনারস), বিদ্যানন্দকাঠি ইউনিয়নে আমজাদ হোসেন(আনারস),মঙ্গরকোট ইউনিয়নে আব্দুল কাদের বিশ^াস(নৌকা), পাঁজিয়া ইউনিয়নে মোঃ জসিম উদ্দিন নৌকা), সুফলাকাঠি ইউনিয়নে এস এম মুনজুর রহমান(চশমা), গৌরৈীঘোনা ইউনিয়নে এস এম হাবিবুর রহমান(নৌকা),সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত গোলাম মোস্তফা বাবু (চশমা) ও হাসানপুর ইউনিয়নে তৌহিদুজ্জামান(নৌকা)।
যশোরের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা
৭ পুলিশ আহত একটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত
বিশেষ প্রতিনিধি: পঞ্চমধাপে যশোরের ২৬ ইউনিয়ন পরিষদে উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হলেও বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ঘটেছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এসব ঘটনায় ৭ পুলিশ সদস্য আহত একটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত অন্তত ১০ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সকাল ৮ টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয় এবং বিরতিহীনভাবে তা চলে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত। ভোেটের মাঠে বিশৃঙ্খলা ও হামলার ঘটনায় ৭ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। লেবুতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১৮াট টিয়ারসেল ছুঁড়েছে পুলিশ। এ ব্যাপারে ১০ জনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এক দুস্কৃতকারীকে কারাদন্ড দিয়েছেন। ভোটের মাঠে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও প্রভাব বিস্তার করে ফল পাল্টানোর অভিযোগ উঠেছে। সকাল সকাল ৯টার দিকে কাশিমপুর ইউনিয়নের ডাকাতিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক সহিংসতায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।আহত ফারুক হোসেন চৌধুরী ও জাহাঙ্গীর আলম তারা উভয়ই কনস্টেবল পদে যশোর সদর কোতোয়ালি থানায় কর্মরত রয়েছেন। কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তাজুল ইসলাম কেন্দ্র পরিদর্শনে ডাকাতিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলে, কেন্দ্র মানুষের বিশৃংখলা দেখে তার বডিগার্ড পুলিশ কনস্টেবল ফারুক চৌধুরীকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেন। ঘটনার এক পর্যায়ে মেম্বার পদপ্রার্থী আপেল মার্কার ছেলে পিছন থেকে বাঁশ দিয়ে ফারুকের মাথায় সজোরে আঘাত করে।এসময় কনস্টেবল জাহাঙ্গীর আলম ও ফারুক আঘাত পান। জাহাঙ্গীর আলম হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহত ফারুককে আহত (মাথায় আঘাত লাগে) অবস্থায় যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে যশোর সদরের ১১নং রামনগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড নামেজ সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রের বাইরে ২০০ গজ দুরে রাস্তার ওপরে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনার সাথে জড়িত থাকা সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়নের পদ্মবিলা নামক স্থানে ভোট সংক্রান্ত ব্যাপারে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী তুহিন খানের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।তবে কোন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন । তবে যশোর সদর ৯ নং আরবপুর ইউনিয়নের বালিয়া ভেকুটিয়া কেন্দ্রের অদুরে আবুল মোল্যার নেতৃত্বে ১৫/২০জনের যুবক বালিয়া ভেকুটিয়া বাজারের রাস্তায় দাড়িয়ে হাতে কেন্দ্রে আরো একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্রে একটি বুথে প্রার্থী শরিফুল ইসলামের এক এজেন্ট ব্যালটে জোর করে টিক দেয়ানোর চেষ্টা করেন। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে আবুল কালাম নামের ওই এজেন্টকে আটক করে ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন বলে তথ্য মিলেছে।
এছাড়া বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের পদ্মবিলায় ভোট সংক্রান্ত ব্যাপারে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী তুহিন খানের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে কোনো আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।
এদিকে, যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের বালিয়া ভেকুটিয়া কেন্দ্রের অদুরে আবুল মোল্লার নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একটি দল বালিয়া ভেকুটিয়া বাজারের রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাতে লাঠিসোটা নিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা প্রদান করে।
সন্ধ্যায় লেবুতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার সময় কেন্দ্রের বাইরে বুথের জানালার পেছনে এক প্রার্থীর অনেকগুলো ব্যালট পড়ে থাকার ঘটনায় তুমুল হৈচৈ শুরু হয়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে বল মার্কার এজেন্টরা ঘুড়ি মার্কার ১শ’ ব্যালট জানালা দিয়ে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ তোলা হয়। ওই ব্যালট উদ্ধারের পর ঘুড়ি মার্কার লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। পুলিশ ঘটনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে ওই বিক্ষুব্ধরা। এসময় ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ১৮টি টিয়ারসেল ছোঁড়ে পুলিশ।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, কয়েকটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। কোথাও বড় ধরণের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি শক্তভাবে মোকাবেলা করেছে পুলিশ। পুলিশ সদস্য আহতের বিষয় তিনি স্বীকার করেছেন। তবে এই আহতের ঘটনা মারত্মক নয় বলে তিনি জানান। তিনি আরও জানান, ভোট পরবর্তী পুলিশের টহল অব্যাহত থাকবে।
সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণের জন্য দুই উপজেলার ৩১৯ টি কেন্দ্রের বিপরীতে ৭ হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে পুলিশ ২ হাজার ৯শ’৫০ জন এবং ৪ হাজার আনসার দায়িত্ব পালন করেন। তবে জেলার।কেশবপুর উপজেলার ৬নং সদর ইউনিয়ন ২নং মূল গ্রাম ওয়ার্ডে ভোট স্থগিত রয়েছে বলে জানাগেছে।
দুই উপজেলার ২৬ টি ইউনিয়নে এক হাজার পাঁচশ’ ৩০ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটার ছয় লাখ সাত হাজার ছয়শ’ ৯৬ জন।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কুয়াশা ও তীব্র শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকে ভোটাররা কেন্দ্রে আসেন।
তবে কোন কোন কেন্দ্র মেম্বর প্রাার্থীরা অভিযোগ করছেন চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোটার আসতে বাধা দেয়ায় তাদের জন্য সমস্যা হয়েছে। কেশবপুরের সাতবাড়িয়া ৮ নং ওয়ার্ডে ভোটের ফলাফল পাল্টানোর অভিযোগ করেছেন সেখানকার ভোটাররা। #

