শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বাঘারপাড়ায় যমজ সন্তানের মা হলেন মানুষিক প্রতিবন্ধী, ঠিক হয়নি পিতৃ পরিচয়

আরো খবর

 নিজস্ব প্রতিনিধি:যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার শ্রীপুর নতুন গ্রামে যমজ সন্তানের জন্ম দিয়ে মা হয়েছেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী (৩০)। রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই গ্রামের এক বাড়িতে তিনি এ যমজ সন্তান প্রসব করেন। তবে দুই সন্তানের মা মাহিনুর বেগম হলেও বাবা হয়নি কেউ। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই মায়ের কাছে সন্তানের বাবার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি একেক সময়ে একাধিক ব্যাক্তির নাম বলছেন। গ্রামের নামও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না তিনি। সদ্য জন্ম নেয়া নবজাতক দুটি ও তাদের মা সুস্থ আছেন। তারা বর্তমানে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মা এবং নবজাতকদের দেখাশোনার জন্য তিনজন মহিলা আনসার সদস্য নিয়োজিত আছেন।
ধলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে রোববার সকালে মানসিক ভারসাম্যহীন এক প্রসূতি শ্রীপুর নতুন গ্রামে এক বাসা বাড়িতে যমজ সন্তান প্রসব করেন। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। সন্তান প্রসবের পর এলাকাবাসী ওই প্রসূতিকে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে তার শারীরিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসক দুই নবজাতকসহ ওই মাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।
তিনি আরও জানান, বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিলা আনসার সদস্য দিয়ে মা ও সন্তানদের বাঘারপাড়া থেকে যশোরে হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করে দেন। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই দুই নবজাতককে দত্তক নেওয়ার জন্য অনেকে চেষ্টা করেছিলেন।
মানসিক ভারসাম্যহীন প্রসুতির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য সুমাইয়া আক্তার পলি বলেন, আমরা তিনজন আনসার সদস্য পালা করে প্রসুতি এবং নবজাতকের দেখাশোনা করছি। বাচ্চাদের মায়ের কাছে দেওয়া যাচ্ছে না, মা বাচ্চাদের মারতে যাচ্ছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. পার্থ প্রতিম চক্রবর্তী  বলেন, গতকাল রোববার বাঘারপাড়া উপজেলায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন মা দুই নবজাতক প্রসব করেন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। মা এবং বাচ্চাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়,  তারা এখন সুস্থ আছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর ও হাসপাতাল কতৃপক্ষ বাচ্চা দুটি মায়ের সার্বিক খেয়াল রাখছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা করেছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অসিত কুমার সাহা  বলেন, ডিডিএলজি যশোর সমাজসেবা অধিদপ্তরকে ওই মানসিক প্রতিবন্ধী প্রসুতি ও বাচ্চাদের দেখাশোনা করার জন্য বলেন। এরপর থেকে আমরা সার্বিক খোজ খবর রাখছি। বাচ্চা এবং মা সুস্থ হলে পরে জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও হাসপাতাল কতৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নিবে। ‘

আরো পড়ুন

সর্বশেষ