শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোরে রাস্তার পাশে সৃজন বাগান, বিনা পুজিঁতে অতি লাভ

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরে সামাজিক বনায়ন জোরদার করণে স্বল্প মূল্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে বন বিভাগ। একইসাথে বাগান সৃজন(তৃতীয় আবর্ত) প্রকল্পের আওতায় ৫ কিলোমিটার বনায়ন কর্র্ম সূচি হতে নেয়া হয়েছে। এতে পরিবশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি । আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ।
যশোর বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল খালেক জানান, পরিবেশ, পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সামাজিক বনায়নের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। দেশে একদিকে যেমন বন উজাড় হচ্ছে অন্যদিকে কলকরখানার বর্জে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। পরিবেশ বিপর্যয়ের এই মারাত্নক ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়ার উত্তম অবলম্বন হচ্ছে সামাজিক বনায়ন। আর এই কারণে সরকার সামাজিক বনায়নের বিপ্লব ঘটনানোর জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় যশোরে বন বিভাগ থেকে উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যশোর রেঞ্জের আওতায় এবছর স্বল্প মূল্যে ৫০ হাজার গাছের চারা বিক্রির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগে আসলে আগে পাবেন এই পদ্ধতিতে চলছে চারা বিক্রি। প্রতিটি চারার মুল্য মাত্র ৯ টাকা। তিনি বলেন, চারা বিক্রির ক্ষেত্রে বনবিভাগ কোন লাভ করেনা। কারণ প্রতিটি চারা উৎপাদন ব্যয় ৯ টাকা।
আব্দুল খালেক জানান, সামাজিক বনায়নের পাশাপাশি এবছর আরো ৫ কিলোমিটার বাগান সৃজন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যশোর-চুকনগর মহা সড়কের সতিঘাটা বীর বিক্রম ব্রিজ হতে কুয়াদা বাজার পর্যন্ত এই বাগান করা হচ্ছে। এটি এই সড়কের তৃতীয় আবর্ত প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রকল্প এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে বনায়ন কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত করে তাদেরকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা।
৫ কিলোমিটার তৃতীয় আবর্ত প্রকল্পে বর্তমান সদস্য সংখ্য ৩২। যারা বাগান সৃজন পাহারা বা দেখভাল করবেন। এর বিনিময় তারা পাবেন গাছ বিক্রির ৫৫ শতাংশ অর্থ। এর আগে প্রথম আবর্ত প্রকল্পে প্রত্যেকে ৫৪ হাজার করে টাকা এবং দ্বতীয় আবর্ত প্রকল্পে ৩৪ হাজার করে টাকা পেয়েছেন। তৃতীয় আবর্ত প্রকল্পের গাছ কাটা হবে ১০ বছর পর।
সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল খালেক জানান, আবর্ত প্রকল্পের বাকী ৪৫ শতাংশ টাকার মধ্যে ভুমি মালিক ২০ শতাংশ, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ সরকার এবং বাকী ১০ শতাংশ পরবর্তী বাগান সৃজনে ব্যয় করা হয়। তিনি বলেন, যশোরে এই প্রকল্পে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। প্রকল্পটিতে বিনা খরচে অতি লাভের সুযোগ থাকায় জমির মালিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ এগিয়ে আসছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ