শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সাতক্ষীরায় ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলার উদ্ধোধন

আরো খবর

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ  সাতক্ষীরায় ঐতিহ্যবাহী গুড় পুকুরের মেলা উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার  সকালে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে  মেলার উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র কাজী ফিরোজ হাসান।ভাদ্র মাসের শেষ দিনে মনষা পূজা উপলক্ষে প্রচীনকাল থেকে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলে গুড় পুকুর পাড়ের বটবৃক্ষের নিচে এই মেলার সূচনা হয়।
এবারের মেলায় প্রায় তিনশোর অধিক স্টল বসেছে। দোকানীরা তাদের পরসা সাজিয়ে বসেছে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য। বাংলার আবহমান কালের সকল গ্রাম্য মেলার মতোই এই মেলায় বিভিন্ন জিনিসের পসরার মধ্যে আছে, কাঠ, মাটি, বাঁশ, বেত আর লোহার সামগ্রীতে ঠাসা এই মেলার প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া  নানা প্রজাতির কলম-করা-গাছগাছড়া।দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন স্টেশনারী পণ্যের বিক্রেতারা। কলম-করা-চারা আর আসবাবপত্র ছাড়াও মেলায় থাকে শিশুদের বিভিন্ন খেলনা; থাকে বিভিন্ন মৌসুমী ফল, থাকে গৃহস্থালী উপকরণ ঝুড়ি, ধামা, কুলা, বাটি, দেলকো, শাবল, খোন্তা, দা, ছুরি, কোদাল প্রভৃতি। এছাড়া বিনোদনের জন্য থাকে ম্যাজিক নৌকা, নাগোরদোলাসহ বিভিন্ন আয়োজন; যাদু প্রদর্শনী, পুতুল নাচ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে   উপস্থিত ছিলেন,  পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দীন, প্যানেল মেয়র-২ শেখ আনোয়ার হোসেন মিলন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী, পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল করিম, পৌর কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ দৌলা সাগর, শেখ মারুফ আহম্মেদ, আইনুল ইসলাম নান্টা, মহিলা কাউন্সিলর নুর জাহান বেগম নুরী, অনিমা রাণী মন্ডল, পৌর সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব নাজমুল হক রনি, আওয়ামী লীগ নেতা আবু আব্দুল্লাহ ছাক্কারসহ আরো অনেকে।জেলা প্রশাসন ও সাতক্ষীরা পৌরসভার আয়োজনে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে অনুষ্ঠিত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেলা উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান মো. মানিক সিকদার।
প্রসঙ্গতঃ  গুড়পুকুর মেলা, বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা, যার বয়স প্রায় ৩০০ বছর বা তার অধিক বলে অনুমিত হয়। সাধারণত আগে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল স্কুলের মাঠ আর পলাশপোল গ্রামই হলো মেলার মূল কেন্দ্রস্থল। কিন্তু  বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ভাদ্র মাসের শেষে অনুষ্ঠিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মনসা পূজাকে কেন্দ্র করে এই মেলা একমাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়।
একসময় কলকাতা ও লন্ডন থেকে ব্যবসায়ীরাও এই মেলায় আসতেন বলে বলেন মেলা উদযাপন কমিটিরা
বর্তমানে সাতক্ষীরা পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের মধ্যে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসবকে কেন্দ্র করে এই মেলা অনুষ্ঠিত হলেও সাতক্ষীরা শহরবাসীর জন্য এই মেলা হয়ে উঠছে গরিব-ধনী, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক মিলনমেলা। মেলায় অশ্লীল নৃত্য, জুয়া খেলা, হাউজি ও লটারি খেলাকে স্থানীয় প্রশাসন নিষিদ্ধ করেছে। এমনকি যাত্রাও সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
প্রতিবছর বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসারে ভাদ্র মাসের শেষদিনে অনুষ্ঠিত হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মনসা পূজা। এই পূজাকে কেন্দ্র করে ৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই ‘গুড়পুকুরের মেলা’। তবে কে বা কারা মেলাটির গোড়াপত্তন করেছিলেন তার কোনো ঐতিহাসিক দলিল পাওয়া যায় না।তবে জনশ্রুতি রয়েছে শহরের পলাশপোলে একটি গোলাকৃতির পুকুরের পাড়ে বট গাছের নিচে একবার এক ক্লান্ত পথিক বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। গাছের ফাঁক দিয়ে আসা রোদ পথিকের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিলো দেখে এসময় একটি বিষধর সাপ ফণা তুলে তাকে ছায়া দেয়। পথিক এই দৃশ্য দেখে মনসার উদ্দেশ্যে পূজা দেওয়া শুরু করেন অথবা এলাকার লোকজনকে মনসা পূজা করতে বলেন। এই পূজার মিষ্টি প্রসাদ পুকুরে ফেলে দেওয়ায় পুকুরের পানি মিষ্টি হয়ে যায়। এই বিশ্বাস থেকে গোলাকৃতি পুকুরের নাম হয়ে যায় গুড়পুকুর। সেই থেকে শুরু হয় গুড়পুকুরের মেলা। এলাকার প্রবীণেরা তাদের বাল্যকাল থেকেই এ মেলা দেখে আসছেন বলে জানা যায়।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ