নড়াইল প্রতিনিধি:আদালতের স্থিতিবস্থার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকান ঘর নির্মাণসহ শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ এবং নড়াইল পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে জমি দখলের অভিযো উঠেছে। ভূক্তভোগির দাবি জোরপূর্বক এসব স্থাপনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) নড়াইল জজ কোর্টের নির্দেশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকান ঘর নির্মাণের বিষয়টি সরেজমিন দেখতে আসেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওয়ারেশ আলী লুলু।
নড়াইল শহরের কুড়িগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ভূক্তভোগি শিক্ষক কবিতা গোস্বামী অভিযোগে জানান, শহরের রূপগঞ্জ এলাকায় ৬৯নং কুড়িগ্রাম মৌজার হাল ৫৯৫নং দাগে তিনি ও তাঁর স্বামী স্বপন কুমার রায় যৌথ মালিকানায় ২০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। গত ২০২০ সালের ২৫মার্চ তাঁকে না জানিয়ে স্বামী স্বপন কুমার বিশ^াস গোপনে ৫ (পাঁচ) শতাংশ জমি স্থানীয় ব্যবসায়ী সমির বিশ^াসের কাছে বিক্রি করে দেন। এর দু’বছর পর সমির বিশ্বাস জমি ক্রয়ের বিষয়টি ২০২২ সালের ৩ নভেম্বর তাঁকে (কবিতা) জানান। বিষয়টি জানতে পেরে কবিতা গোস্বামী ২৫/১১/২০২২ তারিখে আদালতে টাকা আমানতের (অগ্রক্রয়ের) মামলা করেন। চলতি বছরের ২ জানুয়ারী আদালতের নির্দেশে ওই জমির অবস্থা পরিদর্শন করা হয় এবং পরবর্তী শুনানী না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার স্থাপনা না করার নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত।
অভিযোগ উঠেছে, এ স্থিতিবস্থার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকানঘরের কাজ করছেন সমির বিশ^াস। এদিকে দোকানের সামনে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ এবং নড়াইল পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড দেখা গেছে।
কবিতা গোস্বামী অভিযোগ করে বলেন, জমির যৌথ মালিকানা সত্বেও স্বামী তাঁকে না জানিয়ে সমির বিশ^াস নামে এক ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন আদালতের আদেশ অমান্য করে সমির বিশ^াস এখানে স্থাপনা নির্মাণ করছেন এবং ঘরের সামনে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে। আমি বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোসকে জানিয়েছি। আদালতের নির্দেশে শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) দূপুরে সৈয়দ ওয়ারেশ আলী লুলু নামে একজন আইনজীবী দ্বিতীয়বারের মতো সরেজমিনে তদন্ত করে গিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সমির বিশ^াস বলেন, স্বপন রায়ের নিকট থেকে জমি ডশনেছি। অথচ, স্বপন রায় এখন তাঁর স্ত্রী কবিতা গোস্বামীকে দিয়ে মামলা করিয়েছে। ওই জায়গায় কারা দোকানঘর করছে এবং সাইনবোর্ড লাগিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছেলেপেলেরা ওই জায়গায় এসব করছে। তবে ছেলেপেলে কারা তা তিনি বলেননি।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওয়ারেশ আলী লুলু বলেন, নালিশী জমি আমি সরেজমিনে তদন্ত করে এসেছি। প্রার্থীপক্ষ যে বিষয় দেখার জন্য আদালতে আবেদন করেছেন আমি আদালতের নির্দেশে বিষয়টি দেখে এসেছি। বিষয়টি যেহেতু আদালত সংশ্লিষ্ট সে কারণে আমি এ মুহুর্তে আর কিছু বলতে পারবো না।
নড়াইল পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হালিম বিশ^াস বলেন, ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কোনো অফিস নেই। সাইনবোর্ডের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস বলেন, ওই জায়গার ওপর আদালতের স্থিতিবস্থা রয়েছে। যাঁরা সাইনবোর্ড দিয়েছেন তাঁরা অন্যায় করেছে। খোঁজ-খবর নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া শেখ রাসেলের নামে কিছু করতে গেলে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট এবং তাঁর পরিবারের সম্মতি লাগবে।

