শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

কেশবপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় স্বামী-স্ত্রীসহ ৭জন আহত

আরো খবর

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে সন্ত্রাসী হামলায় স্বামী-স্ত্রীসহ ৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশংকা জনক বলে হাসপাতাল সূত্র
জানায়। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
থানা পুলিশ ও ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবাবির কলহের জের ধরে, উপজেলার শ্রীফলা গ্রামের রহমত আলির ছেলে লিটন
(৩৫), হাফিজুর রহমান ( ৪৫), আনার আলির ছেলে, রফিকুল ইসলাম উজ্জল (৫০), ফারুক (৪৫), দিপু
(৩৫) ও মিলন (২৭) এবং লিটনের ছেলে তানভীরসহ (১৮), ১৫/১৬ জন দলবদ্ধ হয়ে, হাতে লোহার রর্ড, দা
ও বাঁশের লাঠি নিয়ে একই গ্রামের শাহীনুর রহমানের বাড়িতে চড়াও হয়ে হামলা চালায়। এসময়
গৃহকর্তা কৃষক শাহীনুর রহমান, হামলা কারীদের দেখতে পেয়ে তিনি ভয়ে তার বসত ঘরের মধ্যে
আশ্রয় নেন। এসময় সন্ত্রাসীরা ওই ঘরের দরজা ভেঙ্গে তারা তাকে ঘরের মধ্যে দা ও লোহার রর্ড দিয়ে
এলো-পাতাড়ী ভাবে কোপায়ে গুরুতর জখম করে। এসময় ওই বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধারের জন্য
এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা শাহীনুরের স্ত্রী পারভীনা বেগম (৪০), তার মেয়ে কলেজ ছাত্রী স্বনা
(১৯), ছেলে মুরছালিন (১৬), শাহীনুর রহমানের বৃদ্ধা মা ছবিরন নেছাসহ (৭০) ৭জনকে বে-ধড়ক
মারপিট করে। এতে তারাও আহত হয়। এখবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এসে আহতদেরকে উদ্ধার
করে কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি করে। আহতদের মধ্যে শাহীনুর রহমান ও তার স্ত্রী পারভীনা বেগমের
অবস্থা আশংকা জনক বলে হাসপাতালের কর্মরত ডাক্তার সাংবাদিকদের জানান।
আহত শাহীনুর রহমান বলেন, আমার ছোট ভাই আফাজ ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবাবির কলহের জের
ধরে, শ্রীফলা গ্রামের মাদরাসা গ্রামের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম উজ্জলের নেতৃত্বে হামলাকারীরা
আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে, বসত ঘরের মধ্যে থাকা বিভিন্ন মালামাল ভাংচুর করে। এসময়
আমি ওদের ভয়ে ঘরের মধ্যে পালায়। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। ওরা ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে
আমার মাথায় দা ও লোহার রর্ড দিয়ে আঘাত করে। আঘাত পেয়ে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি।
এসময় আমার স্ত্রী ও ছেলে মেয়েরা এগিয়ে আসলে ওদেরও মারপিট করা হয়।
মাদরাসা শিক্ষক রফিকুল ইসলাম উজ্জল বলেন, শনিবার সকালে আমার ভাইপোরা শাহীনুরের বাড়িতে
যায়। এখবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়ে তাদেরকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসি।
এব্যাপারে কেশবপুর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্তকারী
কর্মকর্তা এস আই জুয়েল বলেন, হামলার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে হাসপাতালে
আহত ভর্তি রোগীদের দেখতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। হামলার ঘটনায় তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা
নেয়া হবে।
হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার আহসানুল মিজান রুমি বলেন, শাহীনুর রহমান ও তার
স্ত্রীসহ আহতদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে শাহীনুর রহমানের মাথায় জখমসহ তার স্ত্রীর
মাথায় ৭টি সেলাই দেয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ