শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোরে হত্যা ও মাদক মামলার রায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরে হত্যা ও মাদক মামলার রায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন কার দন্ডের আদশে দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। এরমধ্যে  ঝিকরগাছা পৌর এলাকার বিপ্লবকে হত্যা ও মিলনকে হত্যা চেষ্টার মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন ও ৪ জনকে ২ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড এবং অর্থদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। অপর দিকে মাদক মামলায় যশোরের এ্যাথলেটিক হোস্টেলের সাবেক কেয়ারটেকার সামাদসহ দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

 সোমাবর অতিরিক্ত দায়রা জজ তাজুল ইসলাম হত্যা মামলার  এক রায়ে এ আদেশ দিয়েছেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো একই এলাকার মাসুমের ছেলে ইমামুল ইসলাম ও আব্দুল ওহাবের ছেলে আক্তাফুর এবং অপর সাজাপ্রাপ্তরা হলো নুর মোহাম্মদের ছেলে ইছহাক আলী, আমজাদের ছেলে মালেক ও আলী আহম্মেদের ছেলে তোফায়েল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্তি পিপি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামা।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ঝিকরগাছার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কালু ছেলে বিপ্লব হোসেন ও তার ভাইরার ছেলে মিলনের সাথে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ২০১৪ সালের ১৭ জুন রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ঝিকরগাছা বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্য ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কায়েম আলীর বাড়ির সামনে পৌঁছালে আসামিরা বিপ্লব ও মিলনের গতিরোধ করে গালিগালাজ করে। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে বিপ্লবকে আসামি আক্তাফুর ঝাপটে ধরলে ইমামুল ইসলাম ছুরিকাঘাত করে। বিপ্লবকে উদ্ধার করতে গেছে অপর আসামিরা মিলনকে মারপিট ও ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করে। চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত বিপ্লব ও মিলনকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ১৮ জুন আহত বিপ্লবের পিতা কালু বাদী হয়ে ৪ জনের নামউল্লেখসহ অপরিচিত কয়েকজনকে আসামি করে ঝিকরগাছা থানায় হত্যার চেষ্টার মামলা করেন। বিপ্লবের অবহস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন থাকায় অবস্থায় ১৬ দিন পর বিপ্লব মারা যায়। মামলার তদন্ত শেষে আটক আসামিদের দেয়া তথ্যা ও সাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ওই জনকে অভিযুক্ত ও এজাহারনামীয় আসামি কুরবান আলীর অব্যহতি চেয়ে ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মককর্তা এসআই মাহামুদ আল ফরিদ ভুইয়া। দীর্ঘ সাক্ষী গ্রহণ শেষে বিপ্লবকে হত্যার দায়ে আসামি ইমামুল ইসলাম ও আক্তাফুরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-, ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাস করে কারাদণ্ড এবং বিপ্লব হত্যার সহযোগীতা ও মিলনকে হত্যা চেষ্টার দায়ে ইসহাক, মালেক, মিজানুর ও তোফায়েকে ২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ৩ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত ইমামুল ও আক্তাফুর পলাতক রয়েছে।

  এদিকে ফেনসিডিলের মামলায় এ্যাথলেটিক হোস্টেলের সাবেক কেয়ারটেকার সামাদসহ দুইজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- ও অর্থদন্ডের আদেশ দিয়েছে যশোরের আদালত। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ না পাওয়ায় দুইজনকে খালস দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমাবর অতিরিক্ত দায়রা জজ তাজুল ইসলাম এক রায়ে এ আদেশ দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গার আব্দুল বারেক শেখের ছেলে সামাদ ও ভোলা দৌলত খানের দক্ষিন জয়নগর গ্রামের নাসির ফারাজির ছেলে মাইক্রোবাস চালাক মোফাজ্জেল হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্তি পিপি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ১১ ডিসেম্বর যশোরের র‌্যাব-৬ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ক্রীড়া ভবনের সামনে অবস্থান নেন।

দুপুর সোয়া ১টার দিকে এ্যাথলেটিক হোস্টেলের সামনে থেকে একটি মাইক্রোবাস বেরিয়ে যাওয়ার সময় থামায় র‌্যাব। মাইক্রোবাস তল্লাশি করে পিছন থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরী কাঠের বক্স থেকে ৯৭ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। চালক মোফাজ্জেলের স্বীকারোক্তিতে যশোর জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে এ্যাথলেটিক হোস্টেলের রুমের তালা ভেঙ্গে তল্লাশি করে আরও দেড় লিটার ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় র‌্যাবের ডিএডি শাহজাহান আলী বাদী হয়ে আটক মোফাজ্জেলসহ ৫ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত শেষে এসআই অপূর্ব হাসান ২০১০ সালের ১৬ মার্চ ৪ জনকে অভিযুক্ত ও অপর একজনের অব্যহতির আবেদন জানিয়ে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। দীর্ঘ সাক্ষী গ্রহন শেষে আসামি সামাদ ও মোফাজ্জেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাস করে কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামি সবুজ ও জনিকে খালাস দিয়েছে আদালত। সাজাপ্রাপ্ত দুইজনই পলাতক রয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ