শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোরে দু’দিনে ১৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, তলিয়ে গেছে শহরের নিম্নাঞ্চল

আরো খবর

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:বৃষ্টিতে যশোর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই দিনের বৃষ্টিপাতে শহরের খড়কি, ষষ্টিতলা, টিবি ক্লিনিক ও শংকরপুর এলাকার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এমনকি অনেকের বাড়িঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওইসব এলাকার বাসিন্দারা।
যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া বিভাগের তথ্য মতে, যশোরে গত দুই দিনে ১৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃহষ্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১১৯ মিলিমিটার ও তার আগের ২৪ ঘন্টায় ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এদিকে এ বৃষ্টিপাতে
শহরের খড়কি এলাকার শাহ আবদুল করিম সড়ক, খড়কি রূপকথা মোড় থেকে রেললাইন এলাকা, ষষ্টিতলার পিটিআই সড়ক, বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকা ও শংকরপুর এলাকার কয়েকটি সড়কে ড্রেনের পানি উপচে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার অনেকের বাড়িঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে রিক্সা চালক, পথচারী ও এলাকাবাসী।
যশোর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোকসিমুল বারী অপু জানান, শহরের পানি যে পথ দিয়ে হরিনার বিলে পড়তো সেসব স্থানে বড় বড় ভবন হওয়ায় পানি বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে শহরের কিছু কিছু সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নতুন একটি প্রজেক্টে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি খাল খননের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। সেটি সম্ভব হলে জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হবে।

এবার শ্রাবণ-ভাদ্রে যশোরাঞ্চলে প্রত্যাশিত বৃষ্টি হয়নি। তবে আশ্বিনে কিছুটা বৃষ্টি হচ্ছে। নিম্নচাপের কারণে বুধবার ও বৃহস্পতিবার থেমে থেকে বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একটানা বৃষ্টিতে শহরের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। আবহাওয়া অফিস বলছে, নিম্নচাপের কারণে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী রোববার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বৃষ্টিতে আমন ধানের তেমন ক্ষতি না হলেও আগাম শীতকালীন সবজির ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে এক লাখ ৩৮ হাজার ৯৪৭ হেক্টর। আমন চাষ বৃষ্টি নির্ভর হলেও এবার সেচ দিয়ে চাষ করতে হয়েছে কৃষকের।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আবু হোসেন বলেন, গতকালের বৃষ্টিপাতে আমনের কোন ক্ষতি না হলেও যারা আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ করেছেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত অনেক কম হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকের সেচ খরচ লেগেছে। তবে এখন বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে করে আর সেচ দেয়া লাগছে না।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ