শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সাতক্ষীরায় মেট্রোরেলের আদলে মন্দিরে প্রবেশ পথ, দেখতে উপচে পড়া ভিড়

আরো খবর

সাতক্ষীরা প্রুতনিধি: সাতক্ষীরায় শারদীয় দূর্গোৎসবের সকল প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। দেবী দূর্গার প্রতিমায় ভরে উঠেছে সাতক্ষীরার প্রতিটি পূজামন্ডপ। নানান রঙ আর তুলির আঁচরে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবীর প্রতিচ্ছবি শেষ মুহুর্তে রঙের আঁচড় আর সাজসজ্জায় দূর্গাদেবীকে সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাতক্ষীরার প্রতিমা শিল্পীরা।
শুধু তাই নয় সরকারের উন্নয়নকে তুলে ধরতে ও ভক্তদের মন আকৃষ্ট করতে সাতক্ষীরা আশাশুনির মহেশ্বরকাটি সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে মন্দিরের সামনে খালে তৈরি করা হয়ে মেট্রোরারেলের আদলে মন্দিরে প্রবেশ পথ। যা ভক্তদের মন কেড়েছে। যা দেখতে অনেক দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আছে।
কাল ২০ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত।
সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলার ৭টি উপজেলায় ৬০৬টি পূজামন্ডপে এবছ দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে কলারোয়া উপজেলার ৪৮টি, তালা ১৯৬টি, সাতক্ষীরা সদর ১১২টি, আশাশুনি ১০৮টি, দেবহাটা ২১টি, কালিগঞ্জ ৫১টি ও শ্যামনগরের ৭০টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর পূজা মন্ডপের সংখ্যা ছিল ৫৯৯টি ও চলতি বছর ৬০৬টি। গত বছরের তুলনায় এবছর ৭টি পূজামন্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন মন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তের কাজ করছেন।
প্রতিমা শিল্পী দেবাশীষ চক্রবর্তী  জানান, একটি প্রতিমা তৈরি করতে শিল্পীদের সর্বনিম্ন ২৫-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। সর্বোচ্চ তিন-চার লাখ টাকা খরচ হচ্ছে এ বছর। প্রতিমা তৈরির জন্য তাদের ৩ থেকে ৪ ভ্যান মাটি লাগে। খড়ের আউর লাগে ৫ থেকে ৬ পৌন। এছাড়াও কাঠ, বাঁশ, দড়ি, পেরেক, সুতা ও ধানের গুড়াসহ বিভিন্ন জিনিসের প্রয়োজন হয়। একটি প্রতিমা তৈরি করতে সময় লাগে ১৫ থেকে ২০দিন।
সাতক্ষীরা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্তী জানান, এ বছর জেলার ৭টি উপজেলায় মোট ৬০৬টি মন্ডপে পূজা হবে। এ জন্য মন্দিরে বিভিন্ন কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে আমরা বিভিন্ন দাবি করেছি। আশাশুনি উপজেলার মহেশ^রকাটি সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে মন্দিরের সামনে খালে তৈরি করা হয়ে মেট্রোরারেলের আদলে মন্দিরে প্রবেশ পথ। যা ভক্তদের মন কেড়েছে।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার অধিকারী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজায় প্রতিবছরের ন্যায় এবারও পুলিশের পক্ষ  থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। প্রতিটি পূজামন্ডপে আনসার সদস্যরা ডিউটিতে থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপে থাকবে পুলিশ। পুলিশের টিম পূজা মন্ডপগুলো পরিদর্শন করবে। পাশাপাশি যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো আছে তাদের ডিউটিগুলো সবসময় পর্যবেক্ষণ করবে। ভক্তদের মহেশ্বরকাট সার্বজনীন পূজা দেখতে আশার আহবান জানান তিনি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ