নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরে স্কুলছাত্র হত্যার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত হওয়া দুই খুনিকে আটক করা হয়েছে। আককৃতরা হচ্ছে রায়হান ও রয়েব।
শুক্রবার সন্ধ্যায় হত্যাকান্ডে জড়িত রায়হান (২০) কে ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাকু সহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনায় জড়িত অপর আসামী রায়েব সিদ্দিক (১৭) কে ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং ঘটনার সময় তার পরিহিত শার্ট উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ঝুমঝুমপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র ও চুড়িপট্টি এলাকার ভাই ভাই হোশিয়ারির কর্মী রাজিম হোসেনকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
শহরের চুড়িপট্টি এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ডেকে তারই পূর্ব পরিচিত ৫/৬ জনে মিলে এই হত্যাকান্ডর ঘটনাটি ঘটায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। আসামি রায়হানের সাথে কিছু দিন আগে ভিকটিমের মারামারি হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই হত্যা।
ওই রাতেই আশপাশের বাসা ও দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে হত্যাকান্ডের দৃশ্য ভাইরাল হয়ে যায়। দেখা যায় ৫/৬ জনে ধাওয়া করে তাকে ছুরিকাঘাত করছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
ঘটনার রাতেই স্থানীয় সূত্র থেকে পুলিশ প্রাথমিক তথ্য পায়, খুনিরা চুড়িপট্টির দোকানে এসে রাজিমকে ডেকে নিয়ে যায়। প্রথমে বাকবিতন্ডা ও পরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।
রাজিম ওরফে সাজেদকে তার পূর্ব পরিচিত পায়েল, ইয়ামিন, রায়হানসহ ৬/৭ জনের একটি গ্রুপ হত্যাকান্ড ঘটিয়ে চলে যায় বলে পুলিশকে তথ্য দেয়া হয়।
ওই তথ্যে ও সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে মাঠে নামে যশোর কেতোয়ালি থানা পুলিশ। সিসিটিভির ফুটেজে রাতেই শনাক্ত হয়ে যায় হত্যায় জড়িতরা।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে ও ঘটনাস্থল এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে শুরু হয় জড়িতদের শনাক্ত ও আটক অভিযান। হত্যা কান্ডের পর বিভিন্ন স্পটে অভিযান চালিয়ে ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে শুক্রবার রাতে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, চুড়িপট্টি এলাকায় রাজিম হোসেন হত্যাকান্ডে জড়িত সবাই শনাক্ত হয়েছে। আর সবাইকেই আটক করা হয়েছে। তবে তাদের নাম প্রকাশ করেননি। ঘটনার পেছনে কেউ থাকলে তাকেও আটকের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষে মামলা দেয়া হয়েছে। আটককৃতদের নাম ও মামলার বিষয়ে আজ মিডিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, নিহতের বাবা বাদল খান ও বড় ভাই হাফিজুর রহমান ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। রাজিম অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করে দোকানের কাজে ও ঝুমঝুমপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে পড়াশুনায় মনোনিবেশ করেছিল। তারা ভেবেছিলেন এখন নিরাপদে থাকবে রাজিম। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তাকে প্রাণে মেরে ফেললো।
মামলাটি সদর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই(নিঃ) মো এমরানুর কবীর তদন্ত করছেন।
